শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

জয়পুরহাটে ৫ মাদরাসা ছাত্রী নিখোঁজ, থানায় জিডি

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চাকলমুয়া সহীহ সুন্নাহ বালিকা মাদরাসার আবাসিকের পাঁচজন ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) মাদরাসার প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার শিমু বাদী হয়ে কালাই থানায় জিডি করেন।

থানা দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই মাদরাসায় মোট ৫৫ জন ছাত্রী লেখাপড়া করে। তার মধ্যে ৫০ জন ছাত্রী মাদরাসার আবাসিকে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়ে। শুক্রবার ভোরে শিক্ষার্থীদের ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য আবাসিকের তত্ত্বাবধায়ক মোছা. মঞ্জুয়ারা বিবি তাদের কক্ষের দরজা খুলে দেন। এরপর মাদরাসার পরিচালক ফিরোজ হোসেনের মেয়েসহ পাঁচজন শিক্ষার্থী বাহিরে গিয়ে আর মাদরাসায়  ফেরেনি। 

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অন্য চার শিক্ষার্থীর বাসায় খোঁজ নেয়।

তারা কেউই বাসায় যায়নি। নিখোঁজ পাঁচ শিক্ষার্থীর সবার বয়স ১০-১২ বছর। এদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থীর বাক্সের ভেতরে একটি করে চিরকুট পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি।
 

নিখোঁজ এক ছাত্রীর চাচাতো ভাই শামীম হোসেন বলেন, ‘আমার চাচাতো বোন মাদরাসায় পড়ত। সে হঠাৎ করেই মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

নিখোঁজ আর এক ছাত্রীর ভাই হৃদয় হাসান বলেন, ‘এই মাদরাসায় কোনো নিরাপত্তা নেই, সেটি আমরা জানতাম না। আজকে সকালে মাদরাসা থেকে বোনকে না পাওয়ার বিষয়টি ফোনে জানানো হয়েছে। আমার বোনসহ পাঁচজন আজকেই নাকি আগে চলে গেছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

এ ছাড়া তিনজনের বাক্সে চিরকুট পাওয়ার দাবিতেও সন্দেহ করছি।’

মাদরাসার পরিচালক ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে মোছা. কামরুন্নাহার শিমু মাদরাসার প্রধান শিক্ষক। শুক্রবার ভোরে মাদরাসার আবাসিকের পাঁচ শিক্ষার্থীর খোঁজ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে আমার মেয়েও রয়েছে। মাদরাসায় গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনের বাক্সে চিররকুট পেয়েছি। তিনটি চিরকুটে লেখা প্রায় অভিন্ন।’ 

একজন লিখেছে, ‘প্রিয় মা-বাবা, তোমাদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা তোমাদের কষ্ট দিতে চাই না। এ কারণে চলে যাচ্ছি। আমরা আবার ফিরে আসব।’

মাদরাসার পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় কালাই থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নিয়েছে।

কালাই থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াসিম আল বারি বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে জিডি হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।(সূত্র: কালের কন্ঠ)

আরো পড়ুন

সর্বশেষ