শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ঝিকরগাছায় গৃহপচিারিকার কাজ দিয়ে ধর্ষণ, ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা কিশোরী

আরো খবর

আলমগীর হোসেন আলম, : যশোরের ঝিকরগাছায় এক অসহায় কিশোরী অন্তসত্ত্বা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।   ১৩ বছর বয়সের ওই কিশোরী ফজলুর রহমান ফজু  নামের এক ব্যক্তির লালসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। বাড়িতে গৃহপচিারিকার কাজ দিয়ে তাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে ফজলুর বিরুদ্ধে। ওই কিশোরী এখন ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা। ঘটনাটি মোটা টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটল গ্রামের দিনমজুর আমির হোসেন স্ট্রোক জনিত কারণে  প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন।  তার পরিবারের সদস্যরা জীবিকা অর্জনের জন্য এলাকার কিছু বাড়ীতে কাজ করে সংসার পরিচালনা করেন। তারই ধরাবাহিকতায় বাড়ির পর্শ্ববর্তী ফজলুর রহমান ফজুর বাড়ীতে কাজ করতেন প্রতিবন্ধী আমির হোসেনের ১৩বছর বয়সের কিশোরী।

এই কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে ফজুর লালসার শিকার বানিয়ে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে কিশোরী ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে মেডিকেল পরিক্ষার পর বুঝতে পারেন অসহায় পরিবার। আর এই ঘটনা  প্রকাশ পেলে স্থানীয় মাতব্বর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজান হাজীর মাধ্যমে  মিমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, আপনারা যে তথ্য পেয়ে এসেছেন ঘটনাটি সত্য। তবে এ ঘটনার বিষয়ে আপনাদের স্থানীয় মাতব্বরা সামনে এগিয়ে নিতে দেবে না। বিয়ে দিবে, বাচ্চা নষ্ট করে, ৫বিঘা জমি দিবে, আরাব কখনও ৩০ লাখ টাকার মাধ্যমে ঘটনার ধামাচাপার চেষ্টা চলছে। তবে কিশোরী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তার মেয়ে বাহিরের কারও সামনে আনছে না।

 

ঘটনার বিষয়ে কিশোরীর বাড়িতে গেলে কিশোরীর মা তার মেয়ে বাড়ির পাশে আছেন। মেয়েকে ডাকতে গেলে পার্শ্ববর্তী মেয়ের চাচাতো ভাই নয়নের স্ত্রী রুমি ভাবী তাকে সংবাদকর্মীদের সামনে আসতে দেন না। পরবর্তীতে রুমি সংবাদকর্মীদের সামনে এসে বলেন মেয়ের অভিভাবকসহ সবাই বাঁকড়া বাজারের মিজান হাজীর ওখানে যান। ওখানে গেলে সব তথ্য পাওয়া যাবে।

 

প্রতিবেশী ধর্ষক দাদা ফজলুর রহমান ফজুর সাথে যোগাযোগ করতে তার বাসায় গেলে তিনি ঘর থেকে বের না হয়ে তার স্ত্রীকে দিয়ে সংবাদকর্মীদেরকে জানান, ঐ ছেমরির বহু লোকের সাথে সম্পর্ক। তাকে নিয়ে গ্রামের লোহজন ষড়যন্ত্র করছে। ওরা বেশ কিছু দিন আগে ষড়যন্ত্র করে আমার কবুতর মেরে ফেলেছিল। এটা নিয়ে আমি ক্যাম্পে বিচার দিয়ে ছিলাম। তারপর থেকে ওদের আমাদের উপর রাগ। যা হোক অন্যায় আমাদেরই। ”ওরা বলতে চাচ্ছে আমাদের মেয়ের পেটে বাচ্চা তোমাদের নিতি হবে”। ”বাচ্চা ফেলানো যাবে না। মেয়ে মুখ দিয়ে বলেছে”। এখন এলাকার লোকজন এই বিষয়ে বসতে চেয়েছে।

 

স্থানীয় মাতব্বর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হাজী বলেন, আমরা সর্বচ্চো চেষ্টা করছি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আইনের আশ্রয়ে না গিয়ে, আপনারা ধর্ষকের কি করতে চান ? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সামাজিকভাবে ধর্ষকের শাস্তি ব্যবস্থা করবো।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার অনিতা মল্লিক বলেন, আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। তদন্ত করে দেখছি বিষয়টি।

 

থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বাবলুর রহমান বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ওসি সাহেবকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ