নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিকরগাছায় চাঞ্চল্যকর মাসুদ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে নিহতের ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর সকালে নাস্তা খেয়ে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মাসুম বিল্লাল ওরফে মাসুদ (১৯)। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন (৭ অক্টোবর) তাঁর পিতা মো. আজিজ খান শার্শা থানায় একটি নিখোঁজ জিডি (নং–২৯৪) করেন। চার দিন পর ১০ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার বায়শা গ্রামের প্রবাসী রবিউল ইসলামের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিখোঁজ মাসুম বিল্লালের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. আজিজ খান বাদী হয়ে ১১ অক্টোবর ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় যশোরের নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করেন ঝিকরগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু সাঈদ।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও পুলিশি কৌশল প্রয়োগ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবর ভোরে শার্শা উপজেলার উলশী (কুচিমোড়া) এলাকা থেকে প্রধান আসামি আলী হাসান (২৫)–কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার যুগিপুকুরিয়া গ্রাম থেকে আরও দুই আসামি—মো. শরিফুল ইসলাম (৩৮) ও মো. কামরুজ্জামান সরদার ওরফে কামরুল (৩৬)—কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের হেফাজত থেকে নিহতের ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আলী হাসান ও পলাতক আসামি মামুন পূর্বপরিকল্পিতভাবে শার্শার উলশী বাজার থেকে ভ্যানচালক মাসুম বিল্লালকে ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ঝিকরগাছার বায়শা গ্রামের ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে ভ্যান মুছার কাপড় ও ওড়না দিয়ে মাসুমের গলায় ফাঁস লাগিয়ে দুই পাশে টান দিয়ে তাঁকে হত্যা করে। এরপর মরদেহটিকে বাড়ির রান্নাঘরের জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে রেখে তারা ভ্যানগাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরের দিন আলী হাসান নিহতের ভ্যানগাড়িটি ১৭ হাজার টাকায় শরিফুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। শরিফুল পরে ভ্যানগাড়িটি ২০ হাজার টাকায় কামরুজ্জামান সরদারের কাছে বিক্রি করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আলী হাসান (২৫), পিতা আবুল কাশেম, সাং ভৈরবনগর, থানা পাটকেলঘাটা, জেলা সাতক্ষীরা (বর্তমান ঠিকানা উলশী কুচিমোড়া, শার্শা, যশোর); মো. শরিফুল ইসলাম (৩৮), পিতা মৃত মোস্তফা মুফতী, সাং যুগিপুকুরিয়া (পশ্চিমপাড়া), থানা পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা; এবং মো. কামরুজ্জামান সরদার ওরফে কামরুল (৩৬), পিতা মো. সোহরাব সরদার, সাং যুগিপুকুরিয়া (সরদারপাড়া), থানা পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা।
উদ্ধারকৃত আলামত হিসেবে নিহত মাসুম বিল্লালের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামি মামুনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

