শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ঝিকরগাছায় কোম্পানির বীজ নিয়ে কৃষকের মাথায় হাত

আরো খবর

এম.আমিরুল ইসলাম জীবন: কোম্পানির গছিয়ে দেয়া আগামজাতের ফুল কপির বীজ নিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষকরা। প্রায় অর্ধলাখ টাকা খরচ করে কপি চাষ করার পর এখন ক্ষেতে কপি তৈরি হচ্ছে না। আবার কোম্পানির স্যাম্পলের বীজ দিয়ে ঠাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বোধখানা গ্রামের চাষী সমির ভৌমিক জানান, ঢাকার মল্লিকা সিড গ্রুপের মাসুম বিল্লাহ নামে এক প্রতিনিধি তাকে তাদের কোম্পানির বীজ নিয়ে কপি চাষ করতে বলেন। তিনি প্রথমে সম্মত না হলেও পরবর্তীতে তার অনুরোধে তিনি বীজ সংগ্রহ করেন। তাকে মল্লিকা সিড গ্রুপের সামার এ্যাডভান্স রেইন নামক ফুলকপির বীজ দেয়া হয়। তিনি ওই বীজ নিয়ে ১৫ কাঠা জমিতে চাষ করেন।
চাষে তার খরচ হয় প্রায় ৩৫হাজার টাকা। এখন দেখা যাচ্ছে ফুলকপির মধ্য থেকে যে ফুল বের হচ্ছে সেটা ৩-৪টা একসাথে করলে একশ গ্রাম ওজন হবে। যেটা বাজারে বিক্রয়ের অনুপযোগী। যা এখন গৃহপালিত পশুর খাদ্য।

এমন অভিযোগ ইউসুফ পুর গ্রামের চাষী আলমগীর হোসেনের। তিনি প্রায় ৪৫হাজার টাকা খরচ করে ১বিঘা জমিতে কপি চাষ করেন। তারও একই অবস্থা।

স্থানীয় সূত্রগলো জানান, যারা তাদের জমিতে মল্লিকা সিড গ্রুপের সামার এ্যাডভান্স রেইন নামক ফুলকপির বীজ নিয়ে চাষ করেছে তাদের সবার মাথায় হাত। কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা টাকা দিয়ে ভালো বীজ কিনতে চাই। আমাদের কাছ থেকে কোম্পানী টাকা নিয়ে উন্নত মানে বীজ সংগ্রহ করেনা।

এবিষয়ে মল্লিকা সিড গ্রুপের প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ বলেন, কোম্পানীর বীজের প্রথম পর্যায়ে ভালো পাইছি। দ্বিতীয় পর্যায়ে খারাপ হচ্ছে। আমি কোম্পানীকে অবগত করেছি। স্যামফোল বীজ দিয়ে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন উত্তর দেন না। বোধখানা ব্লাকের উপ সহকারী কৃষি অফিসার আইয়ুব হোসেন বলেন, এই ফুলকপি চাষের বিষয়ে কিছু জানিনা।
উপেজলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, শীতকালীন ফসল গ্রীষ্মকালীন সময়ে কৃষকরা চাষ করছেন এটা থেকে আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তবে বীজের বিষয়টা হলো কোম্পানীর সমস্যা। কোম্পানী থেকে ভালো বীজ বাজারে আসলে কৃষক সেটা কিনে নিয়ে ভালো ফসল তৈরী করতে পারবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ