এম.আমিরুল ইসলাম জীবন: আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় যশোরের ঝিকরগাছা উজ্জ্বলপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দাখিল মাদ্রাসার ৩ পদে জনবল নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ আগস্ট) সরকারি ভাবে সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের দিনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ। মাদ্রাসার সুপার বায়েজিদ বোস্তমী নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন নিরাপত্তা কর্মী, আয়া ও কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে নিয়োগের বিষয়ে এলাকার সুমি খাতুন, মোঃ মুজাহিদ ও আব্দুস ছাত্তার যশোরের বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির পর নিরাপত্তা কর্মী পদে ৯/১০জন, আয়া পদে ১০-১২ জন এবং কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে ৭ জন নিয়োগ প্রত্যাশী প্রয়োজনীয় পোস্টাল অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট সহ আবেদনপত্র দাখিল করেন। আবেদনপত্র গুলি যাচাই-বাছাই অঞ্চলে সঠিক বলে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগসাজসে সুমি খাতুন, মোঃ মুজাহিদ অনুকূলে কোন প্রবেশপত্র প্রেরণ না করে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বেআইনি অর্থ বাণিজ্য করা লক্ষে নিজেদের পছন্দমতে প্রার্থী বরাবর গুটিকয়েক প্রবেশপত্র প্রেরণ করেন। প্রবেশপত্র না পাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুপার সাহেব সভাপতির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই দিনই সভাপতি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে সভাপতি বলেন নালিশি পদ সমূহে নিয়োগ পেতে হলে বিপুল অংকের টাকা প্রদান করতে হবে।
এসংক্রান্ত মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও গতকাল শনিবার নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করা হয়েছে।
এব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার বায়েজিদ বোস্তমী নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন হওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন সুইচ অফ করে রাখেন।
মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম নিয়োগ বোর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন নিষেধজ্ঞা নেই। আমি সব লিগ্যালে করেছি। আনলিগ্যাল কিছুই নেই। ”মামলা যদি ওরা টিকোতি পারে তাহলে আমি মামলা চালাবো”।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হুসাইন মিঞা বলেন, শনিবার যশোর জেলা শিক্ষা অফিসে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত থেকে আমাদের কাছে কোনো কাগজপত্র আসেনি। যদি বিজ্ঞ আদালত থেকে কোনো কাগজপত্র আসে তাহলে আমরা সব বন্ধ করে দিবো। আর এটা মাদ্রাসা তো, ঢাকা থেকে ডিজির প্রতিনিধি আসে তারাই এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন।
এদিকে মামলার বাদি পক্ষ জানিয়েছে তাদের দায়ের করা মামলার উপর আদালত যে নিষেধজ্ঞা দিয়েছিল তার বিপরিতে তারা আপিল করেছেন। যার শুনানী রয়েছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। তাদের দাবি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মোটাদাগে বানিজ্য করা হয়েছে। যা তদন্তে প্রমাণ মিলবে। এদিকে মামলা নিস্পত্তি হওয়ার পুর্বে তথ্য গোপন করে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বানিজ্য করা এলাকার অভিভাবক মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হয়েছে।

