কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
জমি বিক্রয়ের পাওনা টাকা উদ্ধারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহেশপুর উপজেলার পূর্বপুরন্দপুর গ্রামের জিয়া উদ্দীন খানের পুত্র কে.এম সালাহ উদ্দীন নামের এক ভুক্তভোগী। গতকাল সকালে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন,ঝিনাইদহ শহরের হামদহ পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা তাঁর শাশুড়ি শাহানুর নেছা সহ অন্যান্যদের মালিকানাধীন কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর মৌজার ২৪০ আর এস খতিয়ানভূক্ত ২১১ শতক জমি পঁচিশ লক্ষ সাতান্ন হাজার পাঁচ শত পচাত্তর টাকায় কালিগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে গত ৭ সেপ্টেম্বর দলিল মূলে বিক্রি করেন। (যার দলিল নং ৪২৪৫ ও ৪২৪৬) এই জমির ক্রেতা কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের আফসার আলীর পুত্র মজনুর রহমান,মহর শেখের পুত্র জহির শেখ এবং যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার সরূপপুর গ্রামের নূর আলীর পুত্র আব্দুর রাজ্জাক। তারা জমি রেজিস্ট্রি করার সময় নগদ তের লক্ষ সত্তর হাজার টাকা প্রদান করেন। এবং দুই হাজার পাঁচ শত পচাত্তর টাকা বাদ রেখে এগার লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। চেক নং ৬৯০৬১২৬, হিসাব নং-১২২৮৪ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ কোটচাঁদপুর শাখা-ঝিনাইদহ।
এদিকে জমি রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর চেক ফেরৎ নিয়ে টাকা না দিতে নানা ফন্দি আটে প্রতারক মজনু ,পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে মোবাইল ফোনে চেকসহ তার বাড়িতে আসতে বলে এবং তার দেয়া চেকটি ফেরৎ দিয়ে নগদ ছয় লক্ষ টাকা ও বাকী টাকার চেক নেয়ার জন্য অনুরোধ করে। সালাউদ্দিন সরল বিশ^াসে গত ৬ অক্টেবর ২০২১ ইং তারিখ দুপুরে তার স্ত্রী সুমাইয়া, শিশু সন্তান সাফায়েত (১৬ মাস) কে নিয়ে মজনুর বাড়িতে যাই। পৌছানোর পর মজনু এবং তার ছেলে মিজান (পুলিশ) টাকা না দিতে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিকাল ৪ টার দিকে নগদ তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে চেকটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্র“ত ছিড়ে ফেলে। বাকী টাকার চেক না দিয়ে বলে,চেক বইতে পাতা নেই। তিনি তখন ব্যাংক কর্মকর্তা আজমিরের কাছে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করান। এ সময় চেক ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলা এবং বাকী টাকার চেক দেয়ার জন্য দাবী করতে থাকে। একপর্যায়ে মজনু ও তার ছেলে মিজান তার ও তার স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে মোবাইল ফোন ও তাদের দেয়া তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। ঐ সময় তারা চেচামেচি শুর“ করলে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মজনুর স্ত্রী,কন্যা ও পুত্র বধু তাদের শিশু সন্তান সাফায়েতকে ধরে খুন করার হুমকি দেয় এবং তাদেরকেও মেরে ফেলতে আসে। পরে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে সালাউদ্দিন ও মজনুর মটর সাইকেল যোগে কোঁটচাঁদপুর উপজেলার পাসপাতিলা এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় ছেড়ে দেয়। যা শিশুতলা বাজারের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে। উল্লেখ্য মজনুর ছেলে মিজান পুলিশে চাকরী করে এবং পূর্বপরিকল্পনা মতে সে ছুটিতে বাড়ি আসে। বিষয়টি নিয়ে ¯’ানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে গত ৬ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখ কালিগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে সালাউদ্দিন। থানায় অভিযোগ দাখিল করলে মিজানের পোষা সন্ত্রাসী ফার“ক মোবাইলে ঐদিন রাত ১২ টারদিকে সালাউদ্দিনকে বিভিন্ন প্রকার হুমকী প্রদান করে। এ বিষয়ে কালিগঞ্জের সাংবাদিক মিঠু মালিতার মধ্য¯’তায় ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে বসার কথা থাকলেও এস,আই জাকারিয়ার কথা মতো গত ৯ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখ কালিগঞ্জ থানায় শালিস বৈঠক হয়। বৈঠকে মজনুর পক্ষে ফার“ক পাওনা টাকা দেয়ার আশ^াস দেয় যা ফোনে রেকর্ড করা আছে।
লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দীন বলেন, ”গত ১৪ অক্টোবর ২০২১ইং তারিখে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য আবেদন করি। এর আগে গত ১১ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখ বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও কালিগঞ্জ সার্কেল) এর সাথে দেখা করে মৌখিকভাবে জানাই। বিষয়টি নিয়ে তিনি এস আই জাকারিয়ার সাথেও কথা বলেন”।
তিনি বলেন,সর্বশেষ গত ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখে আবারও পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করেন। কিš‘ পাওনা টাকা উদ্ধারের কোন ব্যব¯’া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাওনা টাকা উদ্ধার এবং শিশু সন্তান সহ পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা দাবী করে জেলা প্রশাসক সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপ¯ি’ত ছিলেন,ভূক্তভোগী শাহানুর নেছা এবং ইদ্রিস আলী প্রমূখ। এ বিষয়ে মজনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
