শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

টানা বৃষ্টিতে কেশবপুরে ৬ হাজার পরিবার পানি বন্ধি,কৃষি পণ্যে ব্যাপক ক্ষতি

আরো খবর

রূহুলকুদ্দুস,(কেশবপুর) প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিতে কেশবপুর পৌর সভার ৯ ওয়ার্ডের ১২টি গ্রামসহ উপজেলার ৫ হাজার ৮শত ৯৯টি পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৩৯.৫ হেক্টর জমির আমনের বীজ তলাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে  নষ্ট হয়ে গেছে।

গত ১০দিনের একটানা ভারি বৃষ্টিতে ৩শ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড  করা হয়েছে বলে কেশপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছেন ।  আর এই পানিতে কেশবপুরের নদ নদীর উপচে পড়া পানি লোকালয়ে  ঢুকে নিম্নঅঞ্চলের বাড়িঘর তলিয়ে ইতিমধ্যে মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছেন। মৌসুমী ধান, পাট, তরকারির সাথে আমনের বীজতলা তলিয়ে ৩৯.৫হেক্টর জমির ফসল  নষ্ট হয়ে গেছে বলে উপজেলা নির্বাহীঅফিসার রেখসোনা খাতুন জানিয়েছেন।

 

তিনি আরো জানান, কেশবপুর উপজেলা  পানি পদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইতিমধ্যে কেশবপুর উপজেলার  বিভিন্ন নদী ও খালের মুখে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সহায়তায় বাঁধ দেয়া হয়েছে, যাতে নতুন করে কোন এলাকা  প্লাবিত না হয়।

সেই সাথে স্বেচ্ছাশ্রমে উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদ-নদীর কচুরিপানা অপসারণ স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে প্রশাসনের পক্ষেও কাজ শুরু  হয়েছে।

 

তিনি আরো জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য উপজেলার ভরতভায়না এলাকায় নদীতে ভাসমান এস্কেভেটর দিয়ে পলি অপসনে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী কাল আরো ভাসমান স্কেভেটর হরিহর নদের পলি অপসারণ  কাজ শুরু হবে। পৌর এলাকায় বন্যা কবলিত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে একটা আশায় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিকদার জানান, কেশবপুর উপজেলার পানিবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেহরিহর ৩৫কি:তেলিগাতি ২০কি:কাশিমপুর ও বড়েঙ্গা ১৮.৫ নদী খননে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প টেন্ডার সম্পন্ন  হয়ে রয়েছে,।  যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

অপরদিকে আপদকালীন পানিবদ্ধতা নিরশনে কেশবপুরের কাশিমপুরে একটি স্কেভেটরের মাধ্যমে খনন কাজ চলছে।

আগামী তিন দিনের মধ্যে হরিহর নদে আরো পাঁচটি ভাসমান স্কেভেটর কাজ শুরু করবে। জরুরি ভিত্ততে এই কাজ শুরু হয়েছে। যা পরে স্টেমেটের  মাধ্যমে বিল উত্তোলন করা হবে বলে তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। যে কাজ কেশবপুর বাসীর কোন উপকারে আসছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে আসছেন।

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ