নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে ট্রাকে ডিজেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হিট্টু। তিনি বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সর্দার হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কে সদর উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় মের্সাস তানভীর ফিলিং স্টেশনের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এতে জিহাদুল ইসলাম নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নাহিদ সরদার (৩০) সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে এবং আহত জিহাদুল মোল্যা (২৯) তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্যার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার ঢাকা-নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে তুলরামপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশনে ট্রাকে তেল (ডিজেল) নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় পাম্পের ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাকবিতন্ডা হয়।
একপর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ম্যানেজার নাহিদকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। রাত ২টার দিকে পাম্পের কাজ সেরে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে রওনা দেন ম্যানেজার নাহিদ ও জিহাদুল। এসময় ড্রাইভার সুজাত ট্রাক ঘুরিয়ে নাহিদের পেছন পেছন রওনা দেন। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পেছন থেকে ট্রাকচালক সুজাত নাহিদের গাড়ি লক্ষ্য করে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলে পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সর্দার নিহত হন। গুরুতর আহত জিহাদুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রবিবার বিকাল ৪টার দিকে যশোরের বাঘারপাড়া এলাকা থেকে ঘাতক ট্রাকচালক সুজাত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সন্ধ্যা ৬টায় র্যাব-৬ এর যশোর ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুরে যশোরের বেনাপোল ট্রাক টার্মিনাল থেকে যশোর-ট (১১-৬০-৪০) নম্বরের ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে ট্রাকটি শনাক্ত করা হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে যায়। ছবি আছে।

