শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

তাপপ্রবাহে নাকাল যশোরের জনজীবন,বৃস্টি চেয়ে নামাজ আদায়

আরো খবর

অসীম বোস: তীব্র তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে উঠেছে যশোরের জনজীবন। অস্বাভাবিক এই গরমে ডায়রিয়া ও হিট স্ট্রোকসহ পেটের নানা ধরনের পীড়া দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে ঈদবাজার। দেশে যেন মরুভূমির গরম। কোথাও কোথাও সকালে কুয়াশা পড়ছে। প্রচ- রোদের তাপে গলে যাচ্ছে সড়কের পিচও। বাইরে বের হওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরমের সঙ্গে লোডশেডিং যেন নিয়ে এসেছে নরক যন্ত্রণা। গরম সহ্্য করতে না পেরে বৃস্টি চেয়ে অনেক জায়গায় নামাজ আদায় করা হচ্ছে।

রোববার দুপুর ১টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা ১০ দিন যশোরের তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে উঠা নামা করছে। গতকাল প্রায় সারাদিন বাতাসে আগুন অনুভুত হয়। তীব্র গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। অন্য দিকে লোড সেডিং হওয়ায় জনজীবন আরো দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। শহরে লোড সেডিং কম হলেও গ্রামাঞ্চ এই পরিস্থিতি ভয়াবহ। কেশবপুরের মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন শনিবার রাতে লোড সেডিং এর কবলে পড়ে তারা রাতে ঘুমাতে পারিনি। লোডসেডিং-এর কারণে তারাবি নামাজেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে শহর ও শহর তলীর বিভিন্ন মসজিদে। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে দেশে বিদ্যুতের কোন ঘার্টি নেই।

তীব্র এ গরমে কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে আসা শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেককে গাছ তলায় অবস্থান নিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখে গেছে।

শহরের কালেক্টরেট চত্বরে গাছের ছায়ায় রিকশার হুড তুলে বিশ্রাম নেওয়া চালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘রোদ তো না, যেন আগুনের হল্কা বের হচ্ছে। বাইরে দুই চার মিনিট থাকা যাচ্ছে না। খুব তেষ্টা পাচ্ছে। শরীর জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে।’

পুরাতন কসবা এলাকার মুদি দোকানি স্বপন ইসলাম বলেন, ‘সকালের দিকে খরিদ্দার একটু আসে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজনের উপস্থিতি কমতে থাকে। তাপমাত্রা এতো বেশি যে দোকানে দুটো ফ্যান চালিয়েও শরীর জুড়ানো যাচ্ছে না।’

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস বলেন, ‘এই গরমে সব বয়সী মানুষের ডায়রিয়াসহ পেটের নানা ধরনের পীড়া দেখা দিতে পারে। বয়স্ক যারা তাদের হিট স্ট্রোক হতে পারে। এ সময় যতদূর সম্ভব রোদে না বের হওয়া ভালো। শ্রমজীবী মানুষকে তো আটকে রাখা যাবে না। তাদের জন্যে পরামর্শ, সকাল সাড়ে দশটা ও বিকেলের দিকে যেন তারা কাজ করেন।’

বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার বিশেষ করে ডাব, ইফতারে ভাজা পোড়া খাবার পরিহারের পরামর্শ দেন তিনি। যশোর জেনারেল হাসপাতালে খবর নিয়ে জানা গেছে টানা গরমে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এদিকে গরমে বিরুপ প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারেও। তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠায় দিনের বেলায় ক্রেতারা বাসা বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। কিনতে পারছেনা তাদের পছন্দের পোশাক। সবমিলে অসস্থিকর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে মানুষ। এদিকে বৃস্টির জন্য শনিবার ঝিকরগাছাসহ কয়েকটি স্থানে নামাজ আদায় করা হয়েছে।

আবাহাওয়া অফিসের সর্বশেষ খবরে জানাগেছে, তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আগামী ১৯ বা ২০ এপ্রিলের পর থেকে দেশে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে থাকবে। এরপরই মূলত তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। রোববার (১৬ এপ্রিল) আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ