ভারত বিশ্বকাপে গতকালই প্রথম গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সে কারণেই অনেক প্রশ্ন ছিল তাঁর কাছে। কিছু প্রশ্নের উত্তর তিনি খুব ভালোভাবে দিলেও কিছু ক্ষেত্রে কৌতুক করেছেন। সেসব ছাপিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জয়ের বার্তা দিয়েছেন। বিশ্বকাপে মুম্বাই থেকে জয়ের ছন্দে ফিরতে চান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিজেও খেলবেন।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং কেমন দেখলেন?
সাকিব: আরও ৫ ম্যাচ বাকি আছে। টুর্নামেন্ট শেষ করে মূল্যায়ন বা আমার মতামত দেওয়াটা ভালো। মাঝপথে না দেওয়াই ভালো। যেহেতু কাল (আজ) গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ আছে। খেলা শেষ হলে ইনশাআল্লাহ দেব।
প্রশ্ন: দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভালো করছে। বিধ্বংসী খেলছে। কী পরিকল্পনা থাকবে তাদের বিপক্ষে?
সাকিব: বিশ্বকাপে আগের ম্যাচে কী হয়েছে, সেগুলো দেখার বিষয় না। নির্দিষ্ট দিনে পারফর্ম করা গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেও গেছে। যেভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো হয়, আমরা সেটা নিয়েছি।
প্রশ্ন: এই বিশ্বকাপে আপনার বোলিং ইউনিট এখনও ভালো খেলেনি। আপনার কি মনে হয় এ ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স পাবেন?
সাকিব: এমন একটা জায়গায় খেলা হচ্ছে, যেখানে বোলাররা ভালো না করলে জেতার সম্ভাবনা খুব কম। এমন জায়গা, যেখানে বোলাররাই জেতাতে পারে ম্যাচটা। এখানে সেটাই হয়ে থাকে। শেষ ম্যাচে দেখেছি, অনেক রান হয়েছে আগে, পরে বোলাররা ভালো বল করেছে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা চার ম্যাচের তিনটি জিতেছে। ওরা অনেক ভালো অবস্থায় আছে। এর মানে এটা নয়, সব শেষ। পাঁচটি ম্যাচ বাকি আছে। কালকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ রয়েছে। আমরা এখান থেকে জিততে পারলে ছন্দে ফিরে খুবই ভালো একটা জায়গায় চলে আসব। যদিও আমরা খুব বেশি ম্যাচ জিতিনি। তবে পয়েন্ট টেবিলে দেখেন, আমরা খুব একটা বাজে অবস্থায় নেই (হাসি…)।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে দল জিতছে না। গত ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে দলকে উজ্জীবিত করা কতটা কঠিন?
সাকিব: প্রথমবার মনে হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে খেলা হলো না। আমার জন্য আফসোসের বিষয় ছিল। কোনোভাবেই কোনো ক্রিকেটার চান না ম্যাচ মিস করতে। এখানে মিস করাটা আমার জন্য কষ্টকর ছিল। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এসে দলকে খুব বেশি উজ্জীবিত করার দরকার হয় না। এখানে সবারই প্রেরণা আছে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করছে। দলগতভাবে না পারলেও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে মোটামুটি ভালো করেছে। সমন্বিতভাবে হলে আমরা হয়তো আরেকটু ভালো ফল করতে পারতাম।
প্রশ্ন: মিরাজকে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলানোর কারণে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের কি নিচে ঠেলে দিতে হচ্ছে না?
সাকিব: এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০০ রান করেছিল মিরাজ। তখন থেকেই চিন্তা ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবারও তাকে ওপরে খেলাব। এ ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে সে অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। স্বাভাবিকভাবেই ছন্দে থাকায় তাকে ওপরে খেলানো হয়েছে এবং ভালো করেছে। আর বিশেষজ্ঞ ব্যাটাররা নিচের দিকে ব্যাট করছে, আমারও মনে হয়েছে একটু বেশি নিচে ব্যাট করছে। তবে উল্টোভাবে দেখলে তাদের ওপরে খেলানো হলে রান করবে সে গ্যারান্টি নেই। আসলে এগুলো খুবই কঠিন এবং ট্রিকি বিষয়। তবুও আমার মনে হয়, সব ম্যাচেই ২৮০ রান করার সুযোগ ছিল।
প্রশ্ন: আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরাজকে ওপরে খেলাতেই কি তামিমকে নিচে খেলার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটা কি আপনাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল?
সাকিব: মিরাজকে ওপরে খেলানোর পরিকল্পনা আমার ও কোচের। এরপর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ হলেই মিরাজ ওপরে ব্যাট করবে। সে মুজিব-রশিদকে খুব ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। সেদিক থেকে মিরাজ ওপরে ব্যাট করবে, এটা আমাদের পরিকল্পনা অবশ্যই। তবে তামিমকে নিচে খেলার প্রস্তাব আমরা দিইনি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপের আগে সেমিফাইনাল খেলার কথা বলেছিলেন। এখনও কি মনে করেন সে সুযোগ আছে?
সাকিব: এখনও সম্ভাবনা আছে। আমি যেটা বললাম, আমরা না পারলেও অন্যরা আমাদের সাহায্য করছে। এ রকম হতে থাকলে আমরা নিজেদের সাহায্য করতে পারলে কাগজে-কলমে অনেক সুযোগ আছে। সুতরাং এত তাড়াতাড়ি হতাশ হবেন না। বিশ্বকাপ শেষ হলে মন ভরে হতাশ হবেন (হাসি)।

