একাত্তর ডেস্ক
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মহল। বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বক্ষনিকভাবে খোঁজ নিচ্ছেন দুবাইপ্রবাসী খালেদা জিয়ার সাবেক একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোসাদ্দেক আলী ফালু। অন্যদিকে লন্ডনে বেগম খালেদা জিয়ার বড় পুত্র, তার পুত্রবধূ এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজ নিচ্ছেন দুই-তিন দিনে একবার করে।
এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গত ৪৮ ঘণ্টার যে হিসেবে পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দুবাই থেকে মোসাদ্দেক আলী ফালু ১৮ বার ফোন করেছিলেন। তিনি প্রতিদিনই সকাল, দুপুর, বিকেলে নিয়ম করে টেলিফোন করেন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ড্যাবের নেতা ডা. জাহিদ এবং আরো দুই একজনের সঙ্গে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বলে জানা গেছে। গত দুই দিনে তিনি কথা বলেছেন ১৮ বার। অন্যদিকে লন্ডনে পলাতক বিএনপিদর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া গত ২৪ ঘণ্টায় একবার টেলিফোনে কথা বলেছেন ডা. জাহিদের সঙ্গে। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা যিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়গুলো আগে দেখভাল করতেন বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তিনি গত ৪৮ ঘণ্টায় একবারও বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খোঁজ তিনি নিয়েছেন গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায়। সেই সময়ে চিকিৎসকদের একটি ভিডিও কনফারেন্সে তিনি যোগ দেন এবং চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট গুলো ডাক্তার জোবাইদাকে জানান। ডা. জোবাইদা যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলে তাদেরকে আবার জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কথা বলা হয়নি।
বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেছেন যে, শুক্রবারের পর শনি-রবি দুই দিন ছুটি থাকে। আজ নিশ্চয়ই জোবাইদা ডাক্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তারপরই তিনি এই বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, কে কতবার বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ নিলো এটি কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন যে, এটির মাধ্যমে এক ধরনের আবেগ এবং ভালোবাসা, আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তরিক, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ভালোবাসা অনুভব করেন, তারাই বেগম খালেদা জিয়ার নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং এখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আবেগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার একমাত্র জীবিত পুত্রসন্তান। কাজেই তারই সারাক্ষণ খোঁজখবর নেয়া উচিত, এভারকেয়ার হাসপাতালকে এ বিষয় নিয়ে তটস্থ রাখা উচিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, তিনি যেন মায়ের খোঁজ নিতে অনাগ্রহী। বরং এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন। কিন্তু মায়ের খবর নেয়নি। যদিও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন যে, তারেক জিয়া সার্বক্ষণিকভাবেই বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন, পাচ্ছেন। কাজেই তার নতুন করে খবর নেওয়ার দরকার নেই। শামীম এস্কান্দার, সেলিনা ইসলামসহ অন্যান্য যারা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যাচ্ছেন তারা নিয়মিতভাবে তারেক এবং সবাইকে ফোন দিচ্ছেন। অন্যদিকে মোসাদ্দেক আলী ফালুর কারো কাছ থেকে তথ্য পাচ্ছেন না জন্যই তিনি এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তথ্য নিচ্ছেন, এমনটি বলতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু তারপরও এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে তারেক জিয়া আসলে মাদর জন্য কতটুকু আন্তরিক সেই প্রশ্নটি বিএনপির মত বড় হয়ে উঠেছে।

