বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

তালায় প্রকল্পের নামে টন টন টিআর হরিলুট, লাখে ১০ হাজার পিআেইও’র

আরো খবর

শফিকুল ইসলাম, তালা, (সাতক্ষীরা) :সাতক্ষীরার তালায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে টন টন টিআর হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে । এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে নতুন নির্মানাধীন রাস্তা মাপতে গেলেই রাস্তা প্রতি তাকে দিতে হয় নগদ ২ হাজার টাকা। আর নতুন প্রকল্প নিলে লাখে ১০ হাজার টাকা ।

 

যার একটি প্রকল্প উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী প্রগতি মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয় সংলগ্ন শহীদ মিনার মাঠে মাটি ভরাটের কাজ। একাজে বরাদ্দ হয় ৫ টন টি আর। সেখানে কোন রকম দায় সারা কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। এই প্রকল্পের সভাপতি বর্তমান খলিলনগর ইউপি প‍্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ চন্দ্র।
বিকাশ চন্দ্র রায় বলছে আমাকে নামমত্র সভাপতি রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম কাজ দিয়েছে মহান্দী গ্রামের মোকাম সরদারের ছেলে শাহিনকে।

 

ইতোমধ্যে পিআইও ঐ প্রকল্পের অর্ধেক টাকা ( আড়াই টন) উত্তোলন করে শাহিনকে দিয়েছে কি নিজে রেখেছে তা আমি সঠিক বলতে পারব না। তবে যেটুকু শুনেছি তাতে টাকা উত্তোলন করে পিআইও নিজে নিয়েছে। অন‍্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলছেন প্রকল্পের সকল দায়ভার প্রকল্পের সভাপতির উপর।

‎এব‍্যপারে এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন পর একটা কাজ দিয়েছিল সরকার। ৫ টন টিআর যা দিয়ে মহান্দী প্রগতি মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয় সংলগ্ন শহীদ মিনার মাঠে মাটি ভরাট সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হবে। কিন্ত মহান্দী গ্রামের মোকাম সরদারের ছেলে শাহিন ঐ শহীদ মিনার মাঠে ৩ ট্রলি মাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে (আড়াই টন) ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। কিন্তু যে মাটি দিয়েছে তাতে দুবলো ঘাসের আগা ঢাকেনি। এত অনিয়ম আর দুর্নীতি হলে চলবে কি করে। এলাকাবাসী আরও জানান পিআইও এর যোগসাজসে শাহিন এমন অপকর্ম করেছে। তবে এলাকাবাসি এই অনিয়ম দুর্নীতির সুষ্ট তদন্ত পৃর্বক আইনী ব‍্যবস্থা গ্রহনের জন‍্য প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এক ইউপি সদস‍্য জানান, আমরা সদস‍্যরা যত রাস্তা ইটের সলিং করেছি তা মাপের সময় সকল রাস্তা প্রতি ২ হাজার করে টাকা দিতে হয় পিআইও স‍্যারকে। এছাড়াও নতুন প্রকল্প নিলে লাখ প্রতি দিতে হয় ১০ হাজার টাকা।

‎এব‍্যাপারে শাহিন বলেন, আমি মাটি ভরাট করেছি ১ শ ৪০ গড়ি। ওখানে আরো মাটি ভরাট করা হবে।

‎প্রকল্প সভাপতি খলিলনগর ইউপি প‍্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, আমাকে নামমাত্র সভাপতি করা হয়েছে। আমি শুনেছি ঐ প্রকল্পের অর্ধেক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আমি ওখানে যাব এবং দেখবো কোন অনিয়ম হলে আমি ছাড় দেব না।

‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলামের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মহান্দী শহীদ মিনারের মাঠে মাটি ভরাটের কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। অফিসের নিয়ম অনুসারে প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ আড়াই টন টিআর উত্তোলন করা হয়েছে। কাজের অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।

‎তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ হোসনেয়ারা বলেন, বিষয়টি তো আমার জানা নেই নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখি কোন অনিয়ম পেলে আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ