শফিকুল ইসলাম, তালা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি পরিদর্শক অজয় ঘোষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম অব্যবস্থাপনা এবং জালজালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তার লাগামহীন অপকর্মের বিরুদ্ধে ফুষে উঠেছে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
তার এবং তার পরিবারে জালিয়াতির বিষয়টি বেশ আলোচিত। আর এ আলোচনার ঝড় তোলেন তার আপন চাচাত বোন ঝুমু ঘোষ। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে অজয় ঘোষের বাপের কুকীর্তি হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেন। ঝুমু ঘোষের পিতা নীতেন ঘোষ মারা যান ১৯৬৫ সালে। ৬৮ সালের এক জাল দলিল বের করে তার সম্পত্তি জবর দখল করে নেন অজয় ঘোষের পিতা অমল ঘোষ। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানির পর ওই জমি দখলে নিতে গেলে তাদেরকে জেল জুলুমসহ নানাভাবে হয়রানি করেন অজয় ঘোষ। অভিযোগ রয়েছে ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তার চাচাত বোনদের পথে বসিয়েছেন। তার পিতার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
তালা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অধিকাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, তার বাবা অমল কান্তি ঘোষ সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধারদের যাচাই বাছাই তালিকায় একজন অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। যেটি কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খন্দকার নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্রের ৫ নং সিরিয়ালে উল্লেখ করা হয়েছে। এতো গেল তার পিতা অমল ঘোষের কুকীর্তির কথা। অজয় ঘোষের অপকর্মের ফিরিস্থি আরো বড়।
সুত্র জানায়, অজয় ঘোষের চাকরি ছোট হলেও বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে উজেলা ব্যাপী দাপুটে অফিসারে পরিনত হন তিনি। তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন তার অফিসের সহকর্মীরা। দপ্তরিক কাজে সময় না দিয়ে রানৈতিক এবং বক্তিকাজে তাকে বেশী দৌড়ঝাপ করতে দেখা যেত। তিনি চাকরি বিধি লংঘন করে নিজ উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন বছরের পর বছর। এসব সম্ভব হয়েছে আওয়ামী ঘরানার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের ছত্র ছায়ায় থাকার বদৌলতে।
সরকারি কর্মচারী হয়েও তার বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। শুধু রাজনীতি নয় জমি জালিয়াতির ওস্তাদ হিসেবে তিনি তার এলাকায় পরিচিত।
অজয় ঘোষকে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রর্থীর সাথে মনোনয়ন জমা ছাড়াও নিবাচনী মিছিলে তাকে সামনে দেখা যায়।
তালা উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, অজয় ঘোষ ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সাথে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের দায়িত্ব নিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে মুখ্য ভুমিকা পালন করেন। এনিয়ে ওই সময় তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ জেলা, উপজেলায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
এবিষয়ে অজয় ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, জালজালিয়াতি কিম্বা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আমি সম্পৃক্ত না।
এবিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এম ফজলুল হক জানান, অজয় ঘোষ তো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। সে ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে উপজেলার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ছবি সংরক্ষণ আছে। এছাড়াও গত ০৪ আগষ্ট অজয়কে একটি মিছিলের সামনে থাকতে দেখা গেছে। আর অজয়ের বাবা অমল কান্তি ঘোষ একজন অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।
কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থেকে প্রেরিত অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ৫ নং সিরিয়ালে অমল কান্তি ঘোষের নাম উল্লেখ করা আছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জোর দাবি জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।
তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মাষ্টার আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার জানান, মুক্তিযোদ্ধা অমল কান্তি ঘোষ কোথায় যুদ্ধ করেছে তা আমরা কেউ জানিনা সে নিজেও বলতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

