শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

আরো খবর

‎শফিকুল ইসলাম, তালা :সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ৪৫.৪০,০০০০.০০২.২৭.০০১.২৫ নং স্বারকে যশোর সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুদ রানাকে সভাপতি ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ নাজমুস সাদিক, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফাইয়াজ আহমদ ফয়সলকে সদস্য করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) সকালে অফিস সহকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে তালা হাসপাতালের অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে তালা কর্মরত সংবাদিকরা খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আবেদন করেন।

আবেদন পত্র সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রিতি, বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতার কারণে ৫ আগষ্টের পরে উপজেলা কর্মকর্তা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে না পারাই এর মূল কারণ। তাছাড়া মাদক সেবন, নিয়মিত অফিস না করার কারণে নানা অনিয়ম মধ্যে দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি। সেবা প্রত্যাশিরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের পক্ষে উপ-পরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

 

‎তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, তালা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব সরদার কর্মজীবনের শুরুতে তালা হাসপাতালে যোগাদান করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতার সন্তান হওয়ার সুবাদে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে গড়ে ওঠে গভীর সখ্যতা। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি অফিসে মদ্যপ অবস্থায় থাকলেও দলীয় প্রভাবের কারণে কেহই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনেরও অভিযোগ রয়েছে।

 

‎একটি সূত্র জানায়, প্রতি জুন মাসে ডাক্তার রাজিব সরদার ভূয়া বিল ভাউচারে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

‎৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। প্রতিদিন তার রুমের সামনে রুগীর লম্বা লাইন দেখা গেলেও তাকে দেখা যায় না। ঠিক মতো অফিস না করার কারণে সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবল হোসেন তালা হাসপাতালে রোগীদের সুবিধার জন্য ২ ওয়ার্ডে ১২ টি এসি লাগিয়ে দেন। কিছুদিন পূর্বে ১০ এসির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়। অথচ এ বিষয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সাধারণ মানুষের ধারণা, ডাঃ রাজিব সরদার তার পছন্দের লোক দিয়ে এগুলো চুরি করিয়েছেন।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই চুরির সাথে হাসপাতালের প্রধানসহ অনেকই জড়িত। তারা যদি জড়িত না থাকবে তাহলে তদন্ত বা কোনো মামলা হলো না কেন? শুধু তাই নয়, হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পুরাতন বিল্ডিং এর জানালার গ্রিল, লোহার গেইট চুরি হয়ে গেছে অথচ ডাঃ রাজিব সরদার জেনেও না জানার অভিনয় করছেন।

‎তারা বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার ৫ আগষ্টের পরে ঠিকমতো অফিস করেন না। সপ্তাহে ১-২ দিন অফিসে আসেন। তাও আবার ১২ টার দিকে এসে ২ টায় চলে যায়। তালা হাসপাতালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দ্বায়িত্বে অবহেলাই রোগী সেবার বড় অন্তরায়। তাকে হাসপাতাল থেকে না সরালে জনসাধারণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

‎তালা হাসপাতালে ঠিকাদাররা নিন্ম মানের সামগ্রী সরবরাহ করা হলেও গ্রহণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউলে উল্লেখিত উপকরণের পরিবর্তে নিম্ন মানের সামগ্রী সরবরাহ করে। বিনিময়ে ডাঃ রাজিব সরদার লক্ষ লক্ষ টাকা উপঢোকন নিয়ে থাকেন বলে একটি সূত্র জানায়।
তালায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবিষয়ে প্রশ্ন করলে ডাঃ রাজিব সরদার কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

‎হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডাঃ রাজিব সরদার আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্থ। যার কারণে অব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যর জেঁকে বসেছে। হাসপাতাল চালানোর অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তার নেই। রাতে হাসপাতালে থাকলে মদ খেয়ে মাতলামি করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে ও সকল দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যস্থাপনার প্রতিকার চেয়ে তালা প্রসক্লাবের সভাপতিসহ একাধিক সাংবাদিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ডাঃ রাজিব সরদার মাদকাসক্ত দাবি করে তালা প্রসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, এব্যাপারে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নিকট লিখিত আবেদন করেছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান অভিযোগপত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, এবিষয়ে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন দোষী প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ