নোসরাত জামান: একই বিষয়ে ৩ প্রতিষ্ঠানের তিন রকম প্যাথলজি রিপোর্ট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন একজন অসহায় রোগী।তিনি নির্ণনয় করতে পারছেন না কোনটা সঠিক।কোন প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রোগী প্রজন্ম একাত্তরকে জানান,গত ৭ ডিসেম্বর তিনি পেটের পীড়া জনতি সমস্যা নিয়ে যশোর ২৫০শর্য্যা হাপাতালে যান। সেখানে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখান।তিনি রোগীর কাছ থেকে প্রাথমিক বক্তব্য শুনে ব্যবস্থাপত্র দেন এবং বলেন, সাথে কয়েকটি টেস্ট দিলাম, যদি ওষধে উপসম না হয় তা হলে টেস্টগুলো করিয়ে আনবেন।
দু’দিন ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষধ খাওয়ার পর আশানুরুপ উপসম না হওয়ায় ৯ ডিসেম্বর তিনি ফের হাসপাতালে গিয়ে ওই ডাক্তারের চেম্বারে যান। সেদিন আগের সেই ডাক্তার ছিলেন না।কর্তব্যরত ছিলেন অপর একজন মেডিসিনবিশেষজ্ঞ। তিনি ব্যবস্থাপত্র দেখে বলেন, যেহেতু টেস্ট দেয়া হয়েছে আপনি ওইগুলি করিয়ে আনেন। হাসপাতালের প্যথলজি বিভাগে গিয়ে সবগুলো টেস্ট করানো হয়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল রক্তের সিবিসি পরীক্ষা।
পর দিন (১০ ডিসেম্বর) এসব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বেলা ১ টার দিকে একই চেম্বারে যাওয়া হয়। সেদিন ওই চেম্বারের দায়িত্বে ছিলেন অপর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মধুসূদন পাল। তবে ওই সময় তিনি চেম্বারে ছিলেন না। সেখানে কর্তব্যরত ষ্টাফ জানান,”স্যার কলে আছেন আসতে দেরি হবে”। ঘন্টাখানেক পর ডাক্তারের খোঁজ নিতে গেলে ওই ষ্টাফ জানান, ”স্যার দ্বিতীয়তলার চেম্বারে বসবেন সেখানে যান”।সেখানে যাওয়ার ৫/৬ মিনিট পর তিনি(ডাক্তার) চেম্বারে আসেন। তিনি ওই রোগীর সমস্যার কথা না শুনে পরীক্ষা করানো রিপোর্টগুলো দেখে বলেন, সিবিসি রিপোর্ট ভাল না। হাসপাতালে ভর্তি হন ৪ ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। সিবিসি রিপোর্টে দেখা যায় তাঁর হিমোগ্লোবিন ৬ দশমিক এক।
ওই রোগী জানান,ডাক্তার মধুসূদন পালের কথা শুনে অনেকটা অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়েন। তার মধ্যে রক্তের সন্ধান শুরু করেন। রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। সন্ধ্যার মধ্যে রক্তদানে কয়েক জনের সাড়াও পাওয়া যায়। কিন্তু হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় ওই রাতে আর রক্ত নেয়া হয়নি।হাসপাতাল বেজের কয়েকজন সাংবাদিক অনেক চেস্টা করেও বেড খালি না থাকায় তারা বিফল হন। সিদ্ধান্ত হয় পরদিন হাসপাতালে ভর্তি এবং রক্ত প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই রোগী জানান,রাতে তার পুর্ব পরিচিত একজন শিক্ষক জানান, অনেকসময় রিপোর্ট ভুল আসে, ”রক্ত নেয়ার আগে আপনি আর একবার টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন”। উদাহরণ হিসেবে তিনি তার সন্তানের একটি ভুল রিপের্টের কথা উল্লেখ করেন। পরদিন ১১ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে দেশ ক্লিনিকে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার জন্য রক্তদেন ওই রোগী।আরো নামি হাসপাতাল থাকতে কেন দেশ ক্লিনিক জানতে চাইলে তিনি বলেন” নামি হাসপাতালে রিপোর্ট পেতে দেরি হয় একারণে আগে রিপোর্ট পেতে দেশ ক্লিনিক”।
প্রায় দুইঘন্টা পর দেশ ক্লিনিকের রিপোর্টে দেখা যায় তার হিমোগ্লেবিন ১২ দশমিক ৮ পয়েন্ট।এসময় প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেন, ”আমাদের রিপোর্টে আপনার হিমোগ্লেবিন ১৩ পয়েন্টের বেশী আসে। কিন্তু স্যার (ডাক্তার) একটু কমিয়ে দিয়েছেন”। তারা ডাক্তারের উদ্রিতি দিয়ে এও বলেন ”চার ব্যাগ কেন এক ব্যাগও রক্ত দেয়ার প্রয়োজন নেই”।
তখন রোগীর কৌতুহল বেড়ে যায়। তিনি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই সময় কুইন্স হসপিটালে গিয়ে সিবিসি পরীক্ষা করার জন্য রক্ত দেন। এদিন বিকেল সাড়ে পাচটার দিকে রিপোর্ট প্রাপ্তির পর দেখা যায় তার রক্তে হিমোগ্লেবিন ১৪ দশমিক জিরো। যেখানে সরকারি হাসপাতালে রিপোর্টে তার হিমোগ্লেবিন ছিল ৬ দশমিক এক।
দুটি বেসরকারি হাসপাতালে সাথে সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট বেশ ফরাক থাকায় কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে পড়েছেন ওই রোগী। ফলে তার হাসপাতালে ভর্তি বা রক্ত গ্রহণ কোনটি হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার ফের মেডিসিন বিশেষজ্ঞর সাথে কথা বলে তিনি ব্যবস্থাপত্র নেবেন বলে জানান।

