শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

দখল দূষণে ভাগাড়ে পরিণত সাতক্ষীরার প্রাণসায়র খাল

আরো খবর

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:দখল আর দূষণে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরার প্রাণসায়র খাল। শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া যে খালে এক সময় ছির ভরা যৌবন। একসময় সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান এই প্রাণসায়র খাল ছিল জেলার ব্যবসায়-বাণিজ্যের মালামাল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই প্রাণসায়র খাল এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এর ফলে দখল আর দূষণে খালটি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এসব কিছু দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পঁচা দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারী ও বসবাসকারী নাগরিকরা নাকে রুমাল দিয়ে চলাফেরা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাণসায়র খালের পাশ দিয়ে যেসব অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠেছে সেসব দোকানের উচ্ছিষ্ট ময়লা সরাসরি খালে ফেলা হচ্ছে। ফলে ময়লা-আবর্জনায় খালের পানি পচে কালো হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৮৫০ সালের দিকে সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরী নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা ও শহরের শ্রীবৃদ্ধি করতে খালটি খনন করেন। মরিচ্চাপ নদের সঙ্গে বেতনা নদীর সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার জন্য সাতক্ষীরা শহরের ওপর দিয়ে ১৪ কিলোমিটার এ খাল খনন করা হয়। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম ছিল এই খাল। খালটির মাধ্যমে সহজ হয়ে উঠেছিল জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরীর নাম অনুসারে খালটির নামকরণ করা হয় প্রাণসায়র খাল।

খালটির পশ্চিম পাশের সড়ক দিয়ে হেঁটে আসা আল আমিন সরদার বলেন, প্রতিদিন খালপাড়ের এই সড়ক দিয়ে কয়েক’শ মানুষ হাঁটাহাঁটি করেন এবং বিভিন্ন বাহনে গন্তব্যে যান। তাদের নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হয়। খালের আশপাশের বাসিন্দারা ছাড়াও বড় বাজারের ব্যবসায়ী ও অন্য ব্যবসায়ীরা ময়লা ও আবর্জনা ফেলে দূর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে সাতক্ষীরা শহরের পরিবেশ অনেক দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবেমের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অসুস্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রাণসায়র খালকে যারা ভাগাড়ে পরিণত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ফিরোজ হাসান বলেন, মানুষ যাতে খালটিতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে সেজন্য বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু কেউ শুনছে না। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করেছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির জানান, প্রাণসায়র খালপাড়ের বাসিন্দা ও দোকানদারদের নোটিশ করে নিষেধ করা হবে। তারা না শুনলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছি না। খালটির অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ