শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

দেশে ফিরল ভারতে পাচার হওয়া ৫০ কিশোর-কিশোরী

আরো খবর

বেনাপোল প্রতিনিধি:ভালো কাজের আশায় মিথ্যা আশ্বাসে এবং আত্মীয়ের বাড়িতে অবৈধ পথে ভারত গিয়ে আটক হওয়া ৫০ বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছে।

বৃহস্পতিবার (০১ জুন) সন্ধ্যায় তাদের ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট
ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসান হাবীব, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি কামাল হোসেন ভূইয়া বলেন,
চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মাহাবুবুর রহমান প্রমূখ।

ফেরত আসাদের মধ্যে কিশোর ২৮ জন, কিশোরী ২২ জন। তাদের মধ্যে ৪৬ জনের বয়স ৫ থেকে ১৮
বছরের মধ্যে।এবং বাকি চারজনের বয়স ২০ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা তারা।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনার কাউন্সিলর তুসিতা চাকমা ওই কিশোর কিশোরিদের সঙ্গে
বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে দালালের খপ্পরে পড়ে ভালো কাজের আশায় আবার
কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে তারা ভারতে যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে বাসা বাড়িতে কাজ করার সময়
তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগের পর আজ তারা দেশে ফিরে এসেছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবীব বলেন, পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তের অবৈধপথে ভারতের
কলকাতার বিভিন্ন শহর এলাকায় গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশার কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হয়
তারা। পরে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠালে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়।

সাজা শেষ হলে তাদের ছাড়িয়ে সে দেশের একটি বেসরকারি এনজিও নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ফিরে আসারা জানায়, তারা বিভিন্ন মেয়াদে ভারতে কারাভোগ করেছে। দুই দেশের বিশেষ ট্রাভেল
পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে তারা। পরে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে তিনটি এনজিওর মাধ্যেমে
তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য যশোর শেল্টার হোমে নিয়ে যাওয়া হযেছে বলে জানান
পোার্ট থানার ওসি কামাল হোসেন ভুইয়া।
বাংলাদেশ মহিল্ াআইনজীবি সমিতির প্রগ্রাম অফিসার রেখা বিশ্বাস জানান আইনী প্রক্রিয়া শেষে
স্বজনদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে। তবে ভারতীয় এনজিও সংস্থা তাদের ফেরৎ আসার
ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।
ফেরদ আসা হাসি মুন্নি ও প্রদিপ কুমার জানান কোন নারী যেন এভাবে ভারতে না জায়। তাদের
অবর্নণীয় কষ্ট ভুলবেনা কোনদিন। পাচারকারীদের চিহ্নিত করে দুষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করেন
তারা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ