শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্মঘটে নওয়াপাড়া ঘাট শ্রমিকদের মানবেতার জীবন 

আরো খবর

 

অভয়নগর প্রতিনিধি

শিল্প, বাণিজ্য ও বন্দর নগরী খ্যাত অভয়নগরের নওয়াপাড়া। এখানে নৌ, সড়ক ও রেলপথের সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় ব্যবসা বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে নওয়াপাড়া। সারা দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী মোকাম হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু নৌযান শ্রমিকদের ১০ দফার দাবিতে   সারাদেশব্যাপী  অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে  কর্মহীন হয়ে পড়েছে বন্দর শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবকিছু বন্ধ থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন নওয়াপাড়া  বন্দরের শ্রমিকেরা। অনেকেই কাজ পাওয়ার আশা নিয়ে বসে আছেন। কেউবা লুডু,তাস খেলে সময় কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়িক সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থবির অবস্থায় পড়ে আছে পুরো নওয়াপাড়া এলাকা।

নওয়াপাড়া বন্দরের শ্রমিক নেতারা বলেছেন, নৌ শ্রমিকদের ঘোষিত ধর্মঘটের  কারণে নৌ-বন্দরের সকল ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ফলে বন্দরের  সকল সেক্টরের শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে শ্রমিকেরা অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।

উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের বারান্দি গ্রামের ঘাট শ্রমিক শামিম মোল্যা বলেন, ‘দেশব্যাপী নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট  হওয়ায় পণ্য নিয়ে কোন জাহাজ আসতেছে না। এর ফলে নদীতে কোন জাহাজ লোড-আনলোড হচ্ছে না। গত দুইদিন  ধরে বাড়িতে বসে আছি। কীভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছি না।’

উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের  সড়াডাঙ্গা  গ্রামের হরিপদ  বলেন, `আমি দিন আনি দিন খাই। বাড়িতে দুই মেয়ে , এক ছেলে,  মা ও স্ত্রী মিলে ছয়জনের সংসার। ধর্মঘটের  কারণে কোন কাজ না থাকায় বাড়িতে বসে আছি। তিনি বলেন,ধর্মঘটের দ্রুত সমাধান না হলে  এবার হয়তো না খেয়ে মারা যেতে হবে।’

নওয়াপাড়া হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন মন্ডল বলেন, `অভয়নগরসহ আশপাশের উপজেলার হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের প্রায় ২০ হাজার পুরুষ ও নারী শ্রমিক জীবিকার তাগিদে এ বন্দরে কাজ করেন। চলমান ধর্মঘটে  নৌ-বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। ‘

যশোর জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রবিন অধিকারী ব্যাচা বলেন, `আমাদের ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক জীবিকার তাগিদে এ বন্দরে কাজ করে থাকেন। অথচ নৌযান শ্রমিকদের  অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের কারণে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম এখন বন্ধ। এতে করে অভয়নগরে পরিবহন খাতের শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে আমাদের এই পরিবহন খাতে। ‘

তবে শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা,নৌ দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে  ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান,চাঁদাবাজি বন্ধ,রাতে নওজান চলাচল শিথিল করা, ভারতগামী জাহাজ ল্যান্ডিং করার পাশসহ কল্যাণ তহবিল গঠন করা।

এই বিষয়ে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মো. রেজাউল করিম  বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ধর্মঘট  চলবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ