নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুকসহ দুই জনের নামে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে। হেমায়েত হোসন ফারুক সদর উপজেলার মধুরগাতি গ্রামের মৃত ফজলুল ফকিরের ছেলে। মামলার অপর আসামী হলেন বিছালী গ্রামের হাফেজ মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যা ।
বুধবার সদর উপজেলার মধুরগাতী গ্রামের মোল্যা রুহুল আমীন বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মোল্যা রুহুল আমীন ওই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান মোল্যার ছেলে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুকসহ দুই জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর থানায় মামলা নং ১৩ তারিখ ৯ এপ্রিল ২৫।
মামলার বাদী মোল্যা রুহুল আমীন অভিযোগ করেন , হেমায়েত হোসেন ফারুক তার নির্বাচনের সময় আমরা আসামীর পক্ষে নির্বাচন না করায় সে আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল। তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করতে থাকেন।
আমি একজন সাব-কন্টাক্টর। রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন ধরণের প্রজেক্টের কাজ করি। কাজ করার সময় তিনি বিভিন্ন সময় আমার নিকট থেকে চাঁদা গ্রহন করত, চাঁদা না দিলে আমার কাজ বন্ধ করে দিতেন।
তাছাড়াও উল্লেখিত আসামীদ্বয় এলাকার বিভিন্ন লোকজনের জমি দখল করে মাছের ঘের করেছে। হেমায়েত হোসেন ফারুকে মাছের ঘেরের মধ্যে আমার ৭১ শতাংশ জমি রয়েছে, কিন্তু সে জমির লিজ বাবদ আমাকে কোন টাকা দেয় না।
মামলায় আরও অভিযোগ করেন, আমি সাব-কন্টাক্টরের পাশাপাশি যশোর নওয়াপাড়ায় তাজরী এন্টার প্রাইজ এর অফিসে চাকরি করি ও নওয়াপাড়া বিভিন্ন কয়লার ড্যাম্প নির্মানে স্কেভেটার ও ফেলুডার ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করি।
গত ৭ এপ্রিল যশোরের নওয়াপাড়া অফিস শেষ করে মোটর সাইকেলেযোগে বাড়ীতে ফেরার পথে রাত্র অনুমান ১১:৪০ ঘটিকার সময় নড়াইল সদর থানার মধুরগাতী আমাদের বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্বে জনৈক শাহিদুল মোল্যার বাড়ীর পার্শ্বে ইটের সলিং রাস্তায় পৌঁছালে উল্লেখিত আসামীরা আমাকে থামতে বলেন।
আমি মোটর সাইকেলের আলোতে ১নং আসামী চেয়ারম্যান ও ২নং আসামী চেয়ারম্যানের বডিগার্ডকে দেখে চিনতে পেরে মোটর সাইকেল থামাই। তখন আসামীরা আমাকে মোটর সাইকেল থেকে নামতে বলেন। আমি মোটর সাইকেলে থেকে নামলে বলে তুইতো অনেক টাকার মালিক হয়েছিস, আগেতো কিছু টাকা পঁয়সা দিতি, এখনতো কাজকাম ঠিকই করতেছিস কিন্তু টাকা পয়সা দিস না কেন।
আমি বলি যে, আমার হাতের অবস্থা বর্তমানে ভালো নেই, তখন ১নং আসামী বলে যে, আমি ওসব কিছু বুঝি না, এলাকায় থাকতে হলে ও ব্যবসা করতে হলে আমাকে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি রাজি না হলে ২নং আসামী আমার মুখের ওপর ধারালো চাইনিক কুড়াল ধরে বলে যে, চেয়ারম্যান সাহেব যা বলেছে তোকে তাই করতে হবে। ওই সময় ২নং আসামী বলে এখন যে কয়টাকা তোর কাছে আছে দিয়ে যা, বাকী টাকা পরে দিস।
আসামীরা আমাকে প্রাণ নাশের ভয়ভীতি দেখালে আমি ভয়ে আমার কাছে থাকা নগদ ৭৫ হাজার টাকা ২নং আসামীর হাতে দেই। ২নং আসামী টাকা নিয়ে ১নং আসামীর হাতে দেয় এবং আমাকে বলে যে, বাকী টাকা ৭দিনের মধ্যে দিবি, না হলে বিপদ আছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

