রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে গভীর রাতে গরু চুরি হিড়িক, আতঙ্কে গ্রামবাসি

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যাদের জীবিকা নির্ভর করে গবাদিপশুর ওপর।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়নের কামঠানা গ্রামের মালোপাড়ায় একটি গাভী ও বাছুর চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা অসুস্থ নিরঞ্জন বিশ্বাসের স্ত্রী একটি গাভী ও বাছুর লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিন রাতেও গরুগুলো গোয়ালঘরে রেখে পরিবাসের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত গভীর হলে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগে চোর চক্রের সদস্যরা গোয়ালের শিকল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং গাভী ও বাছুর চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দরিদ্র এই পরিবারের জন্য এটি ছিল একমাত্র বড় অবলম্বন।

 

ভুক্তভোগী নিরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে জীবন বিশ্বাস বলেন, এই গাভীটাই ছিল আমাদের একমাত্র সম্বল। দুধ বিক্রি করে কোনোভাবে সংসার চলত। এখন গরুটা চলে যাওয়ায় আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি। সকালে উঠে দেখি গোয়াল খালি। এখন কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।

 

কামঠানা গ্রামের জনপ্রতিনিধি (মেম্বর) মান্তু শিকদার বলেন, আমার এলাকায় এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। যে পরিবারটির গরু চুরি হয়েছে, তারা খুবই অসচ্ছল, গরুটিই ছিল ত৭াদের একমাত্র জীবিকার অবলম্বন। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে কৃষকরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এর আগে গত শনিবার (১৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বসুপটি গ্রামে গোপাল দত্তের গোয়ালঘর থেকেও গরু চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে চোরেরা গুলি করার হুমকি দিয়ে একটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় একটি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ওই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্রসহ গরু নিয়ে পালাতে দেখা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, গরু চুরির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ