শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে চৌকিদারকে কুপিয়ে হত্যা

আরো খবর

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে বকুল শেখ (৪২) নামে একজন গ্রামপুলিশ কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বকুল শেখ কুমড়ি গ্রামের বদির শেখের ছেলে। পুলিশ ও নিহতের পারিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমড়ি পূর্ব পাড়া রেজ্জাকের চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বকুল।

পথে গোলাপ শেখের বাড়ির কাছে পৌঁছালে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় ধারাল অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে
গুরুতর জখম করে তাঁকে। পরে স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে রাকিব শেখ বলেন, খুনিরা আগে থেকে ওঁত পেতে ছিল। এ হত্যাকান্ডের
সঙ্গে যারা জড়িত, বাবা তাদের নাম বলে গেছেন। কুমড়ি গ্রামের পাগল ও আয়নালের সঙ্গে
আমাদের শত্রুতা ছিল। ওরা দু’জন ডাকাতি করতো। পুলিশ ওদের গ্রেফতার করলে ওরা প্রামপুলিশ
হিসেবে বাবার দোষ দিতো। এ কারণে পাগলের ছেলে আজমল, আয়নাল, হোসেন শেখ, রুবেল,
মাহমুদ, ইয়ামিনসহ তাদের লোকজন আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি পুলিশকে
অবগত করা হয়েছে। দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ বোরহান উদ্দিন বলেন, রোববার সকালে
পরিষদের মিটিং ছিল। বকুল শেখ দায়িত্ব পালন করে বাড়িতে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় তাঁকে হত্যা করা
হয়। লোহাগড়া থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
গ্রামপুলিশ বকুল শেখ হত্যারহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রামপুলিশ হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ
আজগর আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ দোলন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেছেন। পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকায়
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। দ্রুত হত্যার
রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রাম পুলিশ বকুল শেখ আমাদেরই একজন সদস্য। এ ন্যক্কারজনক হত্যাকান্ডে জড়িতদের ধরতে প্রশাসন সচেষ্ট আছে। সরকারের প থেকে নিহতের পরিবারকে তাৎণিক ২৫ হাজার টাকা দাফন বাবদ দিয়েছি। আমরা
প্রশাসনের প থেকে নিহতের পরিবারটিকে সার্বিক সহযোগিতা করব।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ