নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০২২ ও ২০২৩ এর ফলাফলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার নড়াইল সদর উপজেলার আয়োজনে নড়াইল শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া বিষয়ে ওপর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় কবিতায় ‘ক’ গ্রুপের ফল প্রকাশের পর পরিবর্তন এর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতিযোগী ঈপ্সিতা বকসীর মা মৌসুমি দত্ত অভিযোগ করেন, সকাল ৯ টায় এ প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১০ টার পরে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। শিক্ষা বিষয়ের কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতা শুরুর পর ২নং প্রতিযোগী ঈপ্সিতা বকসী তার নির্ধারিত কবিতা আবৃতি করেন। পরে, একই সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনের দোতলায় অনুষ্ঠিত সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য যান।
সেখান থেকে তাঁকে ডেকে এনে কবিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বলে বিচারকমন্ডলী ঈপ্সিতাকে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে সংগীত প্রতিযোগিতা শেষ করে চলে আসার সময় ঈপ্সিতার মাকে একজন অবিভাবক বলেন, কবিতার রেজাল্ট পরিবর্তন করা হয়েছে জানেন, অফিসে খোঁজ নেন। একথা শোনার পর ঈপ্শিতার মা ও বাবা কবিতা প্রতিযোগিতার কর্মকর্তাদের অফিসে খোঁজ নিতে গেলে সেখানে থাকা ২ জন প্রাথমিক শিক্ষকা বলেন, ২ জন বিচারকের মধ্যে আমাদের একজনের মার্ক যোগ করতে ভ’ল হয়েছিল, তাই রেজাল্ট পরিবর্তন হয়েছে। এটাই ফাইনাল রেজাল্ট। আপনাদের কিছু করার থাকলে বা পারলে কিছু করেন।
মৌসুমি দত্ত আরো বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করা বড় কথা, বিজয়ী সবাই হয় না। তারপরও একটি প্রতিযোগিতায় ফলাফল ঘোষণা করার পর তা পরিবর্তন করা খুবই দুঃখজনক, এতে শিশুর মনের ওপর কি চাপ পড়ে একজন ‘মা’ ই তা বুঝতে পারেন। বিচারকগণ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি এ প্রতিযোগিতা পুণরায় নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। তাতে যে ই বিজয়ী হোক কোন আপত্তি নেই।
উল্লেখ্য, এ প্রতিযোগিতায় ৫ জন বিচরক থাকলেও তিন জনই হাজির হননি। উপস্থিত ছিলেন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ তাজকির আহম্মেদ ও এস এম ওয়াহিদুর রহমান। যাঁদের এ বিষয়ে কোন অভিজ্ঞতা নেই বলেও অবিভাবকগণ মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সাহা খোঁজ নিয়ে জানান, আমাদের ভুল হয়েছে, একজন বিচারকের মার্ক যোগ না হওয়ায়, ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
ঈপ্সিতার পিতা সাংবাদিক সুজয় বকসী এ বিষয়ে এ প্রতিযোগিতার কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে, তিনি বলেন, এ রকম হতে পারে জেনে, সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভ’মি) মোঃ সেলিম আহম্মেদ ও সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাশারকে দিয়ে আমরা একটি মনিটরিং কমিটি করেছি, আপনি ওই কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।
সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) মোঃ সেলিম আহম্মেদ জানান, বিষয়টি আমি দেখছি।
