শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে দুই স্কুল ছাত্রের ওপর হামলা, হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
নড়াইলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরিয়ান ইসলাম অভ্র (১৬) ও নিরব বিশ্বাস (১৩) নামে দুই স্কুল ছাত্রের ওপর হামলা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত আরিয়ান ইসলাম অভ্র খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর তার বন্ধু নিরব  নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

আহত শিক্ষার্থী আরিয়ান ইসলাম অভ্র যশোর সদরের নীলগঞ্জ এলাকার সৌরভ মাহমুদের ছেলে। অভ্র ছোট বেলা থেকেই নড়াইল সদরের বেতবাড়িয়া এলাকায় নানাবাড়ি থাকেন। তিনি গোবরা প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। তাঁর বন্ধু নিরব বিশ্বাস একই উপজেলার দক্ষিণ নড়াইলের সাধন বিশ্বাসের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।

ভুক্তভোগী আরিয়ান ইসলাম অভ্রের নানী সুফিয়া বেগম বাদি হয়ে ঘটনা উল্লেখে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাতে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা বিবরণীতে প্রকাশ, চলতি মাসের ২ অক্টোবর নড়াইল শহরের বাঁধা ঘাট এলাকায় পূঁজার মেলা দেখতে যান দুই বন্ধু অভ্র ও নিরব। রাত ১০ টার দিকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে অভ্র এর মামা শেখ রুবেলের কাছ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। তারা নড়াইল যশোর মহাসড়কের ভাদুলিডাঙ্গা থেকে সীতারামপুর এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত রাব্বি সিয়ামসহ দু’টি মোটরসাইকেলে থাকা অজ্ঞাত আরও দু’জনসহ মোট তিনজন তাদের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর শুরু করে।

 

এতে গুরুতর আহত হন অভ্র ও নিরব। তাঁদের সাথে থাকা মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে দুই বন্ধকে মূমুর্ষ অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে এক পথচারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভ্রর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনায় পাঠানো হয়। ২ অক্টোবর রাত থেকে সেখানে তিনি চিৎিসাধীন রয়েছেন। আর তাঁর বন্ধু নিরবের কলার বোন ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত চিহ্নের চিকিৎসা দেয় নড়াইল সদর হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক।

 

তবে মামলা বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, বেধড়ক মারপিট করেও ক্ষান্ত না হয়ে ঘটনাস্থলে নিরবের প্যান্ট খুলে মোটরসাইকেলের গরম সাইলেন্সার পাইপে পাছা পুড়িয়ে ঝলসে দেয়া হয়।

এদিকে আহত নিরব বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, আমরা দুই বন্ধু মূলিয়ার দিকে যাওয়ার পথে বৌ-বাজার এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসে আমাদের মোটর সাইকেলের লুকিং গ্লাসের ঘসা লাগে।

 

তখন দুইটা মোটরসাইকেলে থেকে তিনজন আঙ্কেল আমাদের ধাওয়া করে। ভয়ে আমরা যশোরের দিকে যাওয়ার পথে সীতারামপুর ব্রিজের নিকটে ওই আঙ্কেলরা আমাদের জোর করে দাঁড় করায়। ক্ষমা চাওয়ার পরও আঙ্কেলরা আমাদেরকে প্রচন্ড পরিমান মারধর করেন। এসময় আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, পরে কি হয়েছে আমার জানা নেই।
অভ্র এর নানী সুফিয়া বেগম ও নিরবের বাবা সাধন বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, দুইজন স্কুল পড়ুয়া বাচ্চা ছেলেদের প্রাপ্ত বয়স্ক তিনজন এভাবে অমানবিক নির্যাতন করেছে এটা কোন ধরনের বর্বরতা। আমরা এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

সূত্র জানায়, ঘটনার দিন একটি মোটরসাইকেলে শহরের মহিষখোলা গ্রামের মনিরুলেল ছেলে অভিযুক্ত রাব্বি সিয়াম ছিলেন। অপর মোটরসাইকেলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল পুলিশ ও দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা দুরন্ত বিশ্বাস জুধিস্টি (৩০) এবং নড়াইল সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ও মহিষখোলা এলাকার বাসিন্দা খন্দকার শায়খ আলী আবির (২১) ছিলেন।

 

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ