শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে নিজেইে কচুরিপানার মধ্য থেকে লাশ তুলে পুলিশের হাতে দিলো হত্যাকারী

আরো খবর

মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইল:
নড়াইল সদর জেলার তুলুরামপুর ইউনিয়নের নিখোঁজের দুদিন পর আমিনুল ইসলাম ওরফে আলিফ (১৫) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ঘটনায় মিনারুল বিশ্বাস (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

 

চাঞ্চল্যকর তথ্যে’র ভিত্তিতে অভিযুক্ত মিনারুলই নিজে খুন করে কচুরিপানায় ঢেকে রাখা মরদেহটি পরবর্তীতে নিজেই পুলিশকে উদ্ধারে সহযোগিতা করে। রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ নুড়িতলার বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত আমিনুল বিশ্বাস নড়াইল সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের ছোট মিতনা গ্রামের কিনায়েত বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। আটক মিনারুল চাচড়া গ্রামের বাহারুল বিশ্বাসের ছেলে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতের-মা ও স্বজন’রা জানান, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে আমিনুল তার বাবাকে বাজার করার জন্য ৩০০ শত টাকা দেয় এবং কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে সে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়,কিন্তু আর বাড়ি ফিরে আসে না। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রোববার সকালে আমিনুলের মা রোজিনা বেগম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং মিনারুল বিশ্বাসকে গ্রামে আটক করে স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে গণধোলাই দেয়।

 

পরে নিহতের মা রোজিনা বেগম হত্যাকারী মিনারুল বিশ্বাসের হাত বেঁধে যুবদল নেতা শিহাবুর রহমান শিহাবের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং কান্নাকাটি করে ছেলের সন্ধান চান। এ সময় যুবদল নেতা শিহাবুর রহমান শিহাব নড়াইল সদর থানার ওসি মো: সাজেদুল ইসলামকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে নড়াইল সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় হত্যাকারী মিনারুল বিশ্বাসকে সন্দেহজনক ভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আটক করে তদন্তে নামে একটি টিম। সন্দেহভাজন মিনারুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া তথ্য মতে দেবভোগ গ্রামে বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা-মা মরদেহ শনাক্ত করেন।

 

নিহতের মা রোজিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,হাঁসের মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে বাবা আমার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো। কি দোষ ছিল আমার বাবার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান,আটক মিনারুল হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে তা জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন করে সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে,বলে জানান পুলিশের এক কর্মকর্তা।
পরে নিহত আমিনুল বিশ্বাসের মরদেহ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই নিজ বাড়ি আমিনুল বিশ্বাসের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

 

পরের দিন (৬অক্টোবর) সোমবার গোপালগঞ্জ জেলার ভাটিয়াপাড়া থেকে দ্বিতীয় আসামি হৃদয় বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ। এনিয়ে ২ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ