নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৩ই এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মনডাঙ্গা বাজারের এক দোকানদার ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ কর হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত উলফাত মোল্যা (৫০) নামে ওই দোকানদারকে রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আটক করে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণী ব্রাহ্মণডাঙ্গা বাজারে উলফাত মোল্যা নামে এক ব্যক্তির দোকানে কেনাকাটার জন্য যায়। এ সময় দোকানি উলফাত তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানের ভেতর ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে বিষয়টি স্থানীয়রা দেখে ফেলেন এবং মেয়ের মাকে খবর দেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওইদিন রাতে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেন এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই অংশ হিসেবে রাতেই অভিযুক্ত উলফাত ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেন এবং সবার সম্মতিতে উলফাত মোল্যাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে তা তিনদিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা করেন। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও উলফাত মোল্যা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী ওই তরুণীর চাচা বলেন, ইজ্জত তো চলেই গেছে, টাকা দিয়ে কি হবে ? লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না। তাছাড়া ওই সালিশে আমাদের ডাকা হয়নি।
উলফাত মোল্যার ভাতিজি বলেন, আমার চাচা নির্দোষ। তাঁকে ফাঁসিয়েছেন মাতুব্বররা। ২ লাখ টাকা দিয়ে সমাধান করার পরও আমাদের বাড়িতে পুলিশ ও সাংবাদিকরা কেন এল পালটা প্রশ্ন করেন তিনি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আশিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত উলফাতকে সোমবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

