নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল
নড়াইল সদরের বাকলী গ্রামের হরিগুরুচাঁদ মন্দিরের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বারণী উৎসব উপলক্ষে মতুয়া সম্মেলন ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকাল হতে রাত পর্যন্ত চলে এ উৎসব। বারণী উৎসব ও মতুয়া সম্মেলন ঘিরে বাকলী গ্রামসহ এগারোখান এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
নড়াইল জেলা শহর থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী যশোর, খুলনা ও মাগুরা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন এ উৎসব উপভোগ করতে। সেখানে অনুষ্ঠিত মেলায় দেশের ঐতিহ্যেবাহী নানা ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হন কয়েকশ’ বিক্রেতা। নানা রমক পরসা সাজিয়ে বসে তাঁরা। শখের হাঁড়ি, মাটির সরা (ঢাকনা), ফুল, মাটির পুতুল, কাঠের একতারা, বাঁশের বাঁশি, বাঁশ ও বেতের তৈরী সামগ্রী, মুড়ি ও চিড়ার মোয়া, মুড়কি, চানাচুর, বাতসা, মিষ্টি। এছাড় মিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের নাগরদোলা।
বারণী এ উৎসব স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মতুয়া মেলা নামে পরিচিত। আশপাশের নানা জায়গা থেকে মেলায় ভিড় করেন কয়েক হাজার মানুষ। সবার জন্য ছিল উন্মুক্ত নিরামিষ খিচুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা।
সদরের মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রাম থেকে মতুয়া উৎসব দেখতে এসেছিলেন দীপক রায়। তিনি বলেন, প্রতিবছর এ মতুয়া উৎসব দেখতে আসি। এ বছর স্বপরিবারে এসেছি। এগারোখান এলাকার এই মতুয়া উৎসব খুবই নামকরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে দর্শনার্থীরা আসেন।
যশোরের অভয়নগর উপজেলা থেকে আসা কৃষ্ণ বৈরাগী বলেন, ছোটোবেলা থেকে এ মেলায় আসি। মাঝে কয়েক বছর মেলায় আসতে পারিনি। এ বছর মেলায় এসে বেশ ভালোই লাগছে। মেলা ঘুরে ঘুরে দেখছি। পছন্দের খাবার খাচ্ছি এবং পছন্দের জিনিসপত্র কিনেছি।
মতুয়া ও বারণী উৎসবের আয়োজক কমিটির সভাপতি মতুয়াচার্য গৌরাঙ্গ সিকদার বলেন, এগারোখান অঞ্চলের সকল হরিভক্তের উদ্যোগে হরিচাঁদ মন্দিরে এ বছর ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বারণী উৎসবের আয়োজন করা হয়। মেলায় আগত সকল ভক্তদের জন্য নিরামিষ খিচুড়ির খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ টি মতুয়া দলকে এ বছর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভক্তদের আগমন অনেক বেশি হয়েছে।
মেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রণব কান্তি অধিকারী ও নবগঙ্গা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক কার্ত্তিক অধিকারীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন মতুয়াচার্য শ্রী গৌরাঙ্গ সিকদার এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠু বিশ্বাস। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জিকো মাহমুদ, বুরহান খান, নিতিশ বিশ্বাস, অনুব ঘোষ প্রমুখ। এ আলোচনা সভা শেষে মন্দিরে জমিদানকারী ১৫ জন জমিদাতাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।# ছবি আছে।

