শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে শামুক কুড়িয়ে সংসার চলে দুই হাজার মানুষের

আরো খবর

শাহরিয়ার কবীর শৈকত, নড়াইল:
নড়াইল জেলার বিল অঞ্চলের শামুক কুড়িয়ে বছরে আয় করছেন প্রায় ১৫ কোটি টাকা। মওসুমী এ কাজে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শামুক পাড়ি দিচ্ছে যশোর, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায়।

বিল ও মাছের ঘের দিয়ে বেষ্টিত কৃষিপ্রধান নড়াইল জেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও বিল থেকে শামুক কুড়িয়ে মওসুমী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। নারী-পুরুষ মিলে প্রতিদিন ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা আয় করে সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। শামুকের ভিতরের অংশের পাশাপাশি খোলারও বাড়ছে ব্যাপক চাহিদা। শামুকের খোলা দিয়ে তৈরি হয় চুন।

যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে এনেছে নতুন গতি। তবে, পরিবেশবিদরা বলছেন, শামুক কুড়ানোর কারনে এক সময় শামুক বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

নড়াইল জেলার লোহাগড়া, কালিয়া এবং সদর উপজেলার শোলপুর বিল, ইছামতি বিল, কলোড়াসহ ১২টি বিলের শামুক কুড়িয়ে একেকজন প্রতিমাসে আয় করছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শামুক যাচ্ছে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, মাগুরাসহ বেশ কয়েকটি জেলায়।

 

কুড়িয়ে আনা শামুকের ভিতরের অংশ বের করে বিক্রি করেন মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে এবং খোলাটা বিক্রি করেন চুন ব্যবসায়ীদের কাছে।

 

নড়াইল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিল অঞ্চলের হুগলাডাঙ্গা গ্রামের নারী/পুরুষ প্রতিদিন ভোর বেলা নৌকা বা ডোঙা নিয়ে ছুটে যান শামুক কুড়াতে। প্রতিদিন একেকজন নারী/পুরুষ ২০ থেকে ২৫ কেজি শামুক বিক্রি করে আয় করেন ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা।

সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা আয় করে থাকেন। কালিয়া উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর শেখ কালু মিয়া জানান, সংসার চালানোর জন্য তিনি বিলখাল থেকে শামুক সংগ্রহ করে মাছ চাষিদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এতে তার প্রতিদিন প্রায় ৫শ’ টাকা আয় হয়।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর নড়াইলের সহকারি পরিচালক মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, শামুক কুড়িয়ে অনেকে জীবীকা নির্বাহ করছেন ঠিকই, কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সকলপ্রকার জীব পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে। কাজেই কোনো একটি জীব যদি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে পরিবেশ ভারসাম্য হারায়। ফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে পরিবেশের ভারসাম্য।

 

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এইচ এম বদরুজ্জামান বলেন, মাছের খাদ্য হিসেবে শামুকের ব্যবহারকে আমরা নিরুৎসাহিত করে থাকি। কারণ কাঁচা শামুকে এক ধরণের জীবানু থাকে যেটা মাছকে রোগাক্রান্ত করে এবং ওই মাছ মানুষে যখন খাবে তখন মানুষও আক্রান্ত হবে।

 

শামুক মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। খাল বিলে বেশি পরিমাণ শামুকের বিচরণ থাকার কারণে পানি ও মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। শামুক বিলুপ্তির কারনে মৎস্য অধিদপ্তরে আওতায় ‘দেশিয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নড়াইলের মৎস্যজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে শামুক সংরক্ষেণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ