শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
নড়াইল সদর উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম সদর উপজেলার ৪নং মাগুরা কালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন।

আর চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে তিনি ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাড়ি নড়াইল সদরের বোড়ামারা গ্রামে। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধন করেছেন।

 

 

মামলায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, চলতি মাসের ১৫ তারিখ বিকেলে নড়াইল সদরের মাগুরা কালুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির পর একটি শ্রেণির ৪ (২জন ছাত্র ও ২জন ছাত্রী) শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের এক কক্ষে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

একজন ছাত্রী বাহিরে গেলে, ওই শিক্ষক কৌশলে দুই ছাত্রকে জাতীয় পতাকা খুলতে রুমের বাইরে পাঠান। এই ফাঁকে কোমলমতি ছাত্রীকে একা পেয়ে রুমের দরজা দিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় শিক্ষার্থীর চিৎকার ও কান্নার শব্দে তার অন্য সহপাঠীরা ছুটে এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে খোলে। এসময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তড়িঘড়ি করে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিতে দেখে তার সহপাঠীরা।

 

 

সূত্রে আরও জানা যায়, শিক্ষকের এমন কর্মকা- শিক্ষার্থীরা দেখে ফেলায় কাউকে না জানানোর জন্য তাদেরকে অনুরোধ করেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি জানালে সামাজিক অবস্থান ও সম্মানহানির ভয়ে চুপ থাকেন সকলে।

ঘটনার তিনদিন পর ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় পর্যায়ে জোর তদবির চালান। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাতে নড়াইল সদর থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আসছেন। সেটার ফল হিসাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

 

 

এদিকে, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ৭ (সাত) দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করেন। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার মামলা দায়ের করলে ওই শিক্ষক পালিয়ে রয়েছেন। সদর থানা পুলিশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ