শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ ২ জনকে ফাঁসির আদেশ

আরো খবর

নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় স্বামী রনি শেখ (২৬) ও তার বন্ধু প্রধান সহযোগী আব্বাস ফকিরকে (২৪) ফাঁসি এবং প্রত্যেক আসামিকে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা আদায়ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রনি শেখ নড়াইল সদর উপজেলার শড়াতলা গ্রামের লিটন শেখের ছেলে এবং আব্বাস ফকির একই গ্রামের জামির হোসেন ফকিরের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলমাচ হোসেন মৃধা এ আদেশ দেন।

    এ মামলার অপর একটি ধারায় (২০১ ধারা) দু’জনকেই সাত বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আসামির স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

 

     মামলার বিবরণে জানা যায়, ৪ বছর আগে সদর উপজেলার শড়াতলা গ্রামের আছিয়া খাতুনের সাথে রনি শেখের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বায়েজিদ নামে একটি পুত্র সন্তান জন্মলাভ করে। এই সন্তান জন্মলাভের ৬ মাস পরে পারিবারিক কলহের জেরে রনি শেখ স্ত্রীকে তালাক দেয়। এর ৩ মাস পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পুনরায় তাদের বিয়ে হয়। এসময় মেয়ের শান্তির কথা ভেবে আছিয়া খাতুনের পরিবার পৈত্রিক ৯ শতক জমির ওপর একটি একতলা পাকা ঘর নির্মান করে দেেয়। স্বামী রনি শেখ বাংলালিংক কোম্পানীর ডিস্ট্রিবিউটর থাকাকালে গন্ডব গ্রামের হাসিনা খানমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়, একপর্যায়ে উভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে আছিয়া এবং রনি শেখের মধ্যে প্রায়ই কলহ চলতো।

   ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর বেলা সাড়ে এগারটার দিকে বন্ধু মেহেদী হাসান রনি শেখের বাড়িতে আসে। এসময় মেহেদী হাসান স্টিলের পাইপ দিয়ে আছিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করে। আছিয়া অজ্ঞান হয়ে খাট থেকে পড়ে গেলে গলায় ওড়না ও বালিশ চাপা দেয়। পরে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর পেট্রোল ঢেলে আছিয়ার শরীর এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় ৫ নভেম্বর আছিয়া খাতুনে মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৭ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে ঘটনা প্রমানিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন।

 

মামলার বাদী ও নিহত আছিয়ার মা রেবেকা বেগম বলেন, ফাঁসির আদেশ হওয়ায় আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি, তবে উচ্চ আদালতের কাছে দাবী দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকরা করার দাবি জানান।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ