শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইল জেলা পরিষদের সেই সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

আরো খবর

মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইল:
নড়াইল জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক সঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ থেকে প্রকল্প পেতে মোটা টাকার ঘুষ দাবীর অভিযোগ। নড়াইল জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক সঞ্জয় কুমার দাস চাকুরী বিধি ভঙ্গ করে নানা অনিয়ম দূর্ণীতির করেও আছেন বহাল তবিয়তে,কে করে কার বিচার,ষুষ দূর্নীতি যেনো ঘুষখোর সঞ্জয়ের রক্তে মিশে আছে। গোপন সুত্রে জানাযায়,কতৃপক্ষকে গোপনে ম্যানেজ করে সঞ্জয় দাস এখন অঢেল সম্পদের মালিক।
মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুড়ি গ্রামের কনিকা বিশ্বাস বলেন,আমি আমার এলাকার শ্মশানে একটি ঘর নির্মানের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি প্রকল্প জমা দিয়েছিলাম,প্রকল্প জমা দেওয়ার পর আমি সঞ্জয় দাসের সাথে দেখা করলে সে আমার কাছে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প পেতে ৬৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে,আমি মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিন্দ্র নাথ অধিকারীকে দিয়ে সুপারিশ করে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে সঞ্জয় চেয়ারম্যান রবিন্দ্র নাথ অধিকারীর সামনে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলে এবং আমাকে খারাপ মহিলা বলে আমার মানহানি করে।
আমি জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক ঘুষ খোর সঞ্জয়ের বিচার চাই। নাম না প্রকাশ করার শর্তে সদর উপজেলা ভুমি অফিসের এক কর্মচারী জানান,সঞ্জয়ের কাছ থেকে কারো নিস্তার নেই,সে আমার এলাকার মসজিদের বরাদ্দ থেকেও আমার কাছে ঘুষ দাবী করেছে। অনুষন্ধানে বেরিয়ে আশে এমন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য,অনুষন্ধানে জানা যায়,সঞ্জয় বছরের পর বছর জেলা পরিষদের প্রকল্প নামে ব্যে-নামে পাশ করিয়ে দিয়ে নিজে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এদিকে,লোহাগড়া পৌরসভার কচুবাড়িয়া গ্রামের মৃত জবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে সঞ্জয় কুমার দাস তাকে লোহাগড়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল ম্যান পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। বিল্লাল হোসেন এর আগে লোহাগড়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের লোডার পদে কর্মরত ছিলেন। টাকা দেওয়ার পর ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার দাস নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিনেও নিয়োগপত্র না দিলে,বিল্লাল হোসেন টাকা ফেরত চাইলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে,প্রতারক সঞ্জয়।
গত ১৭ জানুয়ারি বেলা ২টার দিকে বিল্লাল হোসেন টাকা ফেরত চাইতে সঞ্জয় কুমার দাসের বাসায় গেলে তিনি তাকে ৫-৭ জন সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ৩টি নন জুটিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরে বিল্লাল হোসেন গত ২৩ জানুয়ারি নড়াইল বিজ্ঞ আমলী আদালতে সঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিচার পেতে মামলা দায়ের করেন। সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে গত ২০২১ সালের ১৬ ই জানুয়ারি জামগড়া আশুলিয়া সাভারের বাসিন্দা মোঃ আশিকুজ্জামান সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের নড়াইল শাখার ম্যানেজার সঞ্জয়ের অনিয়ম দূর্ণিতীর বিরুদ্ধে জেনারেল ম্যানেজার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও গ্রাহক হয়রানির কথা উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ১০ ই জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি এলাকার রোজিনা বেগম নড়াইলের সুন্দর বন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যনেজার সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথাবার্তার অভিযোগ তুলে নড়াইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন,এবং সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশীত হয়। এবিষয়ে সঞ্জয়ের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ