নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক কৃষি সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে যশোর অঞ্চলে। কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ফলপ্রদ প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ মুল্যের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিকে লাভজনক ও বানিজ্যিক করতে বাংলাদেশ সরকারের সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে যশোর অঞ্চলের ৬টি জেলায় “যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্প এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল এবং ফলপ্রদ করতে প্রকল্পের অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার যশোর শহরের আর আর এফ প্রশিক্ষণ ও রিসোর্স সেন্টারের সম্মেলণ কক্ষে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপি অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) রবীন্দ্রশ্রী বড়–য়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. হামিদুর রহমান।
এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরোজমিন উইং এর পরিচালক মোঃ তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী।
যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মনিটরিং ও মুল্যায়ন কর্মকর্তা মোঃ মাসুম আব্দুল্লাহ এর পরিচালনায় নিরাপদ উচ্চ মুল্যের ফসল উৎপাদন ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর কৃষি অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. এম এ রহিম (অব:), স্বাশ্রয়ী পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এম জি মোস্তফা আমিন, বছরব্যাপি পুষ্টি চাহিদা পুরণে ফলের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর এর এইচআরসি, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ফল) ড. বাবুল চন্দ্র সরকার।
কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জাতীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগ/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, “আধিুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্দি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উচ্চ মুল্যের নিরাপদ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্ষতি হ্রাস করে খোরপোশ কৃষিকে বানিজ্যিক কৃষিতে রুপান্তর করার লক্ষ্যে “যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প” গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর অঞ্চলের ৬টি জেলার ৩১টি উপজেলার ১ হাজার ৮০০ জন শিতি তরুণ ও নারী কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। প্রকল্প এলাকায় উচ্চমূল্যের নিরাপদ ফসল উৎপাদন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হবে। এছাড়া ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যে ফসলের উৎপাদনশীলতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় ২০ শতাংশ কম করে কৃষিকে লাভজনক করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) রবীন্দ্রশ্রী বড়–য়া বলেন- বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নানাবিধ বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার অংশ হিসেবে দেশের খোরপোস কৃষিকে বানিজ্যক কৃষিতে রুপান্তর করা অন্যতম গুরুত্ব পূর্ণ লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে এই “যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ন ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশকরি।

