বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন পে স্কেল: কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়তে পারে

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ১০০ থেকে ১৪৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে কমিশন। কমিশনের এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবি ও পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা হওয়া প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘেটে দেখা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এত দিন শুধু ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেতেন।

অবসরের পর সরকারি চাকরিজীবীরা মোটা অঙ্কের পেনশন পেয়ে থাকেন। এটি আরও বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক নতুন হার প্রস্তাব করা হয়েছে কমিশনের প্রতিবেদনে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ বছর বা তার কম বয়সিদের ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

প্রতিবেদনে কোনো সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাকে মাসে ২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ সুবিধা সর্বোচ্চ দুজন সন্তানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

বর্তমানে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পেলেও নতুন বেতন কমিশন এ ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।

বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে কমিশন ভিন্ন ভিন্ন গ্রেডে ভিন্ন হার প্রস্তাব করেছে। তুলনামূলক বেশি বেতনভুক্ত প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া কম হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বেতন কমিশনের এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়তে পারে

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১ম গ্রেড বর্তমানে মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটি বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ৫৫ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ, পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৭ হাজার ২০০, নবম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ১০০, দশম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার, ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ১০০, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

আরো পড়ুন

সর্বশেষ