শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পচাত্তর বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেও এখনও বিদ্যুৎ বিল আসে মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক লাল সাহার বাবা মাখন লাল সাহা ৭৫ বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেও তার নামে এখনও বিদ্যুৎ বিল আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে। সেই বিল নিয়মিত পরিশোধও হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার ওই বাড়িতে এখন পরিবার নিয়ে বসবাস করেন শরীফুল ইসলাম মালদার নামে এক ব্যক্তি, যার বাবার বন্ধু ছিলেন মাখন লাল সাহা।

শরীফুল বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে এই বাড়িতে থাকতেন মাখন লাল সাহা। আর ত্রিপুরার আগরতলা শহরের ধলেশ্বর এলাকায় থাকতেন শরিফুল ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম।

মাখন লাল আর নুরুল ইসলাম দেশভাগের পর তাদের বাড়ি পরিবর্তন করে নেন। নুরুল চলে আসেন বাংলাদেশে আর মাখন চলে যান ত্রিপুরায়।

শরীফুল ইসলাম বলেন, “বাড়ি বিনিময় হলেও প্রিয় বন্ধুর প্রতি ভালবাসার নিদর্শনস্বরূপ বিদ্যুৎ বিলে মাখন লাল সাহার নাম পরিবর্তন করেননি আমার বাবা। বন্ধুর স্মৃতি যেন মুছে না যায়, সেজন্য মৃত্যুর আগে বাবা আমাদের বিলের কাগজে নাম পরিবর্তন না করারও নির্দেশ দেন।”

গত ১৪ মে মাখন লাল সাহার ছেলে মানিক লাল সাহা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার বাবার নামে বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়টি আলোচনায় ওঠে।

শরীফুল ইসলাম বলেন, তার বাবা আগরতলা থেকে এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলেজে লেখাপড়া করতেন। সেই সুবাদে মানিক লালের সঙ্গে তার বাবার বন্ধুত্ব হয়। এরপর দেশ ভাগের সময় দুই বন্ধু তাদের বাড়ি বিনিময় করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টিএ রোডের মাজারগেট দিয়ে কাজীপাড়া এলাকায় ঢুকতেই মাখন লাল সাহার সেই আদিবাড়ির অবস্থান। ২৪ শতাংশ জায়গায় বাড়িটিতে এখন নুরুল ইসলাম মালদারের পরিবারের সদস্যরা বাস করেন। মাখন লাল সাহা যে বাড়িতে থাকতেন তার পাশে আরও কয়েকটি ঘরবাড়ি হয়েছে। গড়ে উঠেছে বেশ কিছু দোকান ঘরও।

মানিক সাহা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে আনন্দে ভাসছেন নূরুল ইসলাম মালদারের পরিবারের সব সদস্য ও আশপাশের বাসিন্দারা। যদিও মানিক সাহার যাতায়াত নেই তার আদিবাড়িতে।

মাখন লাল সাহার নামে বিদ্যুৎ বিল আসার কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ বিভাগের সবুজ কান্তি বলেন, বাড়ির বর্তমান বাসিন্দারা বিলের কাগজে গ্রাহকের নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেননি। তাই এখনও মাখন লাল সাহার নামেই বিল যাচ্ছে। বিল নিয়মিত পরিশোধও হচ্ছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ