সাতক্ষীরাপ্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের ১০ লাখ টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে বিএনপি উভয় গ্রুপের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে পাটকেলঘাটা বাজারে পৃথক স্থানে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো বিএনপি নেতা রাজু গ্রুপের তালা উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হায়দার আলী, বিএনপি‘র হাসান গ্রুপের লাকী, হাসানুর। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বিএনপি সমর্থিত আনন্দ টিভির সাংবাদিক হাসানুর রহমানের পাটকেলঘাটা বাজারের মিনিষ্টার শো রুম। সাংবাদিক হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট করে ৩০-৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। রাতে আরেক দফায় সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদুল হক রাজুর তৈলকুপি গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে।
আনন্দ টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি বিএনপি সমর্থিত হাসানুর রহমান জানান, শনিবার রাতে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা সদরে বাঁধন শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে দলের কয়েকজনের সাথে তিনি কথা বলছিলেন। এসময় হঠাৎ সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল হক রাজু ও তালা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মন্টু, মজিদ,বিল্লালসহ ২০/৩০ জনন সাংবাদিক হাসানের উপর হামলা ও পল্লী বিদ্যুৎ রোডে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শোরুমে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তারা বিএনপি নেতা লাকী বেধড়ক মারপিট করে। শোরুমে রাখা এলইডি টিভি, ফ্রিজ, এসি, রাইস কুকার ও নগত ৫ লাখ টাকা সহ আনুমানিক ৩০-৩৫ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী লুটপাট ও ভাংচুর করে।
সাংবাদিক হাসানর রহমান আরও জানান, পাটকেলঘাটা আ’লীগ নেতা, সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও পাটকেলঘাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই ৫ই আগস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ইউপি পরিষদে ও স্কুলে যেতে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছিল বিএনপি নেতা কর্মীদের দ্বারা। এজন্য নিরাপদে পরিষদে বসা ও স্কুলে সাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নেতা রাশিদুল হক রাজু, যুবদল নেতা মন্টু, মকবুল টেইলার্স এর মালিক বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন এর সাথে ১০ লক্ষ টাকায় আপোষ রফাদফা করে। সে অনুযায়ী নগদ ৮ লাখ টাকা ও ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করে বিএনপি নেতা রাজুর কাছে। চুক্তি অনুযায়ী ২৮শে আগষ্ট বুধবার স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদে বসাতে মকবুল টেইলার্স আব্দুল হাই মাষ্টার কে পাটকেলঘাটা হাই স্কুলে মটর সাইকেলে করে নিয়ে যায়। এসময় বিএনপির অপর গ্রুপের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার স্কুলে এসেছে খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হলে দ্রুত হাই মাষ্টার স্কুল ত্যাগ করে চলে যায়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আড়োল সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে নেতাকর্মীরা টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বিএনপি নেতা রাজু তার গ্রুপের লোকজন নিয়ে সাংবাদিক হাসনুর রহমানের উপর হামলা ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে হাসানুর অভিযোগ করেন।
এদিকে, বিএনপি নেতাদের চাঁদা দেয়ার বিষয়ে সত্যতা যাচায়ের জন্য হাই মাষ্টারের সাথে যোগযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
অপরদিকে, হাসান ও লাকীর উপর হামলার খবর পেয়ে তাদের গ্রুপের লোকজন রাতে পাল্টা রাজু গ্রুপের উপর হামলা করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিকদলের বিল্লাল ড্রাইভার, আব্দুল মজিদ, ইসমাইল, মকবুল টেইলার্স, ইয়ারুল, কবির ড্রাইভার, নুর ইসলাম, যুবদল নেতা হায়দার, সেলিম ড্রাইভার আহত হয়। হাসপাতালে ভর্তি শ্রমিকদলের তালা উপজেলার সহসভাপতি আব্দুল মজিদেও অবস্থা আশংখজনক বলে তার স্বজনরা জানিয়েছে।
সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল হক রাজু জানান, তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। তার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে সাবেক শিবির নেতা হাসানুর এসব প্রচার করে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে।
তিনি জানান, রাতে হাসান তার লোকজন নিয়ে আমার তৈলকুপি গ্রামের বাড়ীতে হামলা করে ভাংচুর করেছে।
এই বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, বিষটি তিনি শুনেছেন। তবে, এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা করা হবে।

