স্থানীয়রা জানিয়েছে, ইছামতী নদী ভাঙনের কারনে বাংলাদেশের দিকে সরে আসছে নদীটি। পাল্টে যাচ্ছে দেবহাটা উপজেলার মানচিত্র। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অংশের কয়েক হাজার বিঘা জমি ইছামতী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতীয় অংশে জেগে ওঠা চরে গড়ে উঠেছে হোটেল-পার্কসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতেকরে ইছামতী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি, কবরস্থানসহ জমিজমা হারাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের কিছু কিছু অংশ নদী গর্ভে ধ্বসে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বেড়িবাঁধের এসব অংশে ক্রমশ ফাটলের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এতে করে যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
ভাতশালা এলাকার তৌহিদ গাজী, সুব্রত অধিকারী জানান, নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে ভাতশালা বিশ্বাস বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেটি যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। আমরা ভয়ে আছি।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে ইছামতী নদীতে ভাঙন চলছে। দেবহাটার ভাতশালা থেকে কালীগঞ্জের খারহাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকার ৮ থেকে ১০ জায়গায় ভাঙন অব্যাহত আছে। বিপরীতে ভারতের অংশে চর জেগে উঠছে। ভাঙন রোধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নদীর পাশে শতাধিক ইটভাটা তৈরি করেছে। পাশাপাশি নদীর পাড় ঢালাই করে সুরক্ষা করা হয়েছে। এতেকরে নদী দিনকেদিন বাংলাদেশের দিকে সরে আসছে।
দেবহাটা সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল জানান, ইছামতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নদী ভাঙন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা দ্রুততম সময়ের ভিতরে বাঁধ সংস্কার করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বর্তমানে নদ-নদীতে জোয়ারের পানি একটু বেশি বাড়ছে। এতে করে সীমান্তের ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ভাঙ্গনকবলিত এলাকা আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করে জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন পয়েন্টগুলো মেরামতের কাজ করা হবে।

