শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

পুলিশ পরিচয়ে একাধিক নারীর সাথে প্রেম-ধর্ষণ, অবশেষে আটক

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরে এক কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে পরিচয় ও নিজেকে পুলিশের এএসআই পরিচয় দিয়ে কৌশলে এক নারীর বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ, ধর্ষণের নগ্ন ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজে প্রেরণ, নগ্ন ভিডিও ও স্থিরচিত্র প্রচারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রুবেল হোসেন (৩৬) নামে এক যুবকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ৮ মাস পর ১০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুরে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। রুবেল রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার আসকারপুর (সারদা) গ্রামের বর্তমানে যশোরের বেনাপোল পোর্টথানার পোড়াবাড়ি গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। ধর্ষনের শিকার ওই কলেজ শিক্ষার্থীর পিতা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া গ্রামের বাসিন্দা শুক্রবার দুপুরে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার অপর আসামি নড়াইল জেলা সদরের চামরুল গ্রামের সজিবের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৪৬) বর্তমানে যশোর শহরের চারখাম্বা মোড়ের জনৈক লাবনীর বাড়ির ভাড়াটিয়া। পিবিআই ধর্ষক রুবেল হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলায় কলেজ শিক্ষার্থীর পিতা উল্লেখ করেন, বিগত ২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে তার মেয়ে এম এম কলেজের দক্ষিণ গেটের পাশে দাক্ষিনালয় নামের মেসে থেকে যশোর শিক্ষাবোর্ড কলেজে লেখাপাড় করতো। চলতি শিক্ষাবর্ষে তার মেয়ে এইচ এস সি পরীক্ষা দেয়। তার মেয়ে যশোর পঙ্গু হাসপাতালের বিপরীত পার্শ্বে পিকাসো নামীয় কোচিং সেন্টারে কোচিং করতো। মেস থেকে কোচিং সেন্টারে যাওয়া আসার পথে
বিগত ২১ সালের জুন মাসে আসামি রুবেলের সাথে তার কলেজ পড়–য়া মেয়ের পরিচয় হয। মেয়ের সাথে পরিচয়ের সময় আসামি রুবেলে নিজেকে পুলিশের এ এস আই পরিচয় দেয়। রুবেল নিজেকে অবিবাহিত বলে কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। আসামি কামরুন্নাহারকে আসামি রুবেল নিজের বোন পরিচয় দেয়। গত ২১ সালের ৩ আগস্ট সকালে আসামি রুবেল বদির মেয়েকে কামরুন্নাহারের ভাড়া বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে বাদির মেয়েকে
ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের সময় কলেজ শিক্ষার্থী চিৎকার করলেও কামরুন্নাহর শুনলেও এগিয়ে যায়নি। ধর্ষনের সময় রুবেল বাদির মেয়ের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। নগ্ন ভিডিও ধারণ করার পর আসামি রুবেল আমার মেয়েকে বলে তার কথা মতো না চললে নগ্ন ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেবে। এরপর সেই
ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে রুবেল বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে ধর্ষণ করতে থাকে। ভিডিও ধারণের পর থেকে রুবেল মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও আমার মেয়েকে দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ব্লাক মেলিং করে আসামির সাথে মেলামেসার জন্য চাপ প্রয়োগ করতো। অন্যথায় ভিডিও ইন্টারনেটসহ আত্নীয় স্বজনের মোবাইলে ছড়িয়ে দেবে মর্মে হুমকি
দিত। আমার মেয়ে রুবেল হোসেনের ভয়ে রাজি হয়ে দেখা করতো। আসামি রুবেল প্রত্যেকবার আমার মেয়েকে আসামি কামরুন্নাহারের বাড়ি নিয়ে ধর্ষন করতো। প্রতিবার পুনরায় আসামি রুবেল মেয়ের নগ্ন ছবি মোবাইলে ধারণ করে রাখতো। আমার মেয়ে রুবেলে দ্বারা নির্যাতিত হয়ে ২০২২ সালের জুন মাসে বাড়িতে চলে আসে। বাড়ি চলে আসার পর আসামি রুবেল পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য আমার মেয়েকে যশোর আসতে বলে। আমার মেয়ে আসামি রুবেলের কথা মতো যশোর আসতে রাজি না হলে আসামি রুবেল আমার মোবাইলের ইমোতে আমার মেয়ের নগ্ন ছবি পাঠিয়ে দেয়। প্রস্তাব দেয় আসামির সাথে আমার মেয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক না করে তাহলে এই নগ্ন ছবি ইন্টারনেটসহ আত্নীয় স্বজনের মোবাইলে ছড়িয়ে দেবে। আমি ও আমার স্ত্রী আসামির সাথে দেখা করে মোবাইলে ধারণকৃত নগ্ন ছবি
ও ভিডিও ডিলিট করার জন্য অনুরোধ করি। তখন আসামি রুবেল বলে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ডিলিট করতে হলে তাকে ৮ লাখ টাকা দিতে হবে। আমি পরিবার ও আমার মেয়ের আত্নসম্মানের কথা বিবেচনা করে ২০২২ সালের জুন মাসের পর আমার বাড়ি থেকে ও বাড়ির সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে আসামিকে চার কিস্তিতে ৩ লাখ টাকা প্রদান করি। সর্বশেষ
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি আসামি রুবেল আমার মোবাইলে ফোন করে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ