নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসক না হয়ে নিজেকে দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরতলীর পুলেরহাট বাজারস্থ নুরুল হক মার্কেটে তিনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের আদেলে তৈরি করেছেন চেম্বার।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ভুয়া ডেন্টিস্ট তরিকুল ইসলাম একটি নামসর্বস্ব প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কোর্স করে পুলেরহাট বাজারে গড়ে তুলেছেন আলেয়া ডেন্টাল কেয়ার নামে চেম্বার। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেডিকেল ডিগ্রি লুকিয়ে নিজেকে অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রীতিমতো চিকিৎসক সেজে বসেছেন।
স্থানীয় বাজারে অভিজ্ঞ দাঁতের ডাক্তার আছে জেনে সাধারন মানুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে শুরু করে। বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও নামের আগে ব্যবহার করছেন ডেন্টিস্ট পদবী, লিখছেন ব্যবস্থাপত্র। ব্যবস্থাপত্রে ডিগ্রি হিসেবে লিখেছেন বিডিএ। কিন্তু বিডিএ নামে স্বীকৃত কোন ডিগ্রি নাই। বাংলাদেশ ডেন্টাল এসোশিয়েশনের সংক্ষিপ্তরূপ বিডিএ। যেটি একজন দন্ত চিকিৎসক কখনোই ডিগ্রি হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন না। শুধু তাই নয় এই ডিগ্রি ব্যবহার করে, সেখানে তিনি দাঁত তোলা, বাঁধানো, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্যাপ, ব্রিজসহ সকল ধরনের দাঁতের চিকিৎসা প্রদান করে চলেছেন। যেগুলো একজন ডেন্টাল সার্জনের কাজ।
নীতিমালায় স্পষ্ট রয়েছে, যারা বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট থেকে এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন কেবলমাত্র তারাই নামের আগে ডাক্তার বা ডেন্টিস্ট লিখতে পারবেন। অন্য কোন ডিগ্রিধারী (যেমন, ডিপ্লোমাধারী বা ডিএমএস ডিগ্রিধারীরা) এই পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। যেসকল ব্যক্তিগণ ডেন্টাল টেকনোলজির উপর ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন, তারা একজন ডেন্টিস্টের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
এবিষয়ে দন্ত চিকিৎসক তরিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ডেন্টালের উপর কোর্স করে নিজস্ব চেম্বার করে চিকিৎসা দিচ্ছি। চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসা সেবা দেওয়া এবং ব্যবস্থাপত্র লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমার ডিপ্লোমা কোর্স করা আছে, আমি চিকিৎসা দিতে পারবো।
স্থানীয়রা জানান, দাঁতের ডাক্তার তরিকুল ইসলাম এলাকায় নিজেকে অভিজ্ঞ দাঁতের ডাক্তার বলে প্রচার করেন। আমরা তাই জেনে তার কাছে চিকিৎসা নিতে যাই। তিনি যে ডাক্তার নন এবিষয়ে আমরা জানি না। আমরা চাই, এই ভুয়া ডাক্তারের শাস্তি হোক। স্থানীয়রা এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন যশোরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

