নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল বন্দরে আমদানি রপ্তানির মাধ্যমে শুল্কফাঁকির ছোঁয়ায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে ভাইভাই সিন্ডিকেটের দুই হোতা। কল্পিত গল্প কাহিনির মতই বনে গেছে কোটি কোটি টাকার মালিক। বলছি যশোরের বেনাপোলের কথিত বহুল আলোচিত আমদানিকারক ও বিতর্কিত কাগজপুকুর এলাকার বাসিন্দা হাসানুজ্জামান হাসান ও তার পাতানো ভাই পাটনার আজিমের কথা। বেনাপোল পেট্রাপোল সীমান্তে তারা ‘ভাইভাই সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের সম্রাট।
উচ্ছ শুল্কযুক্ত ও আমদানি নিশিদ্ধ পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঔষধ ,আনপ্রসেসিং চুল, ব্লেড,মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে সাপের বিষ সবই কৌশলে দেশে প্রবেশ করে তাদের হাত দিয়ে। এ যেন মামুলি ব্যাপার। তার পরও তারা অধরাই রয়ে গেছে। একেক সময় রং বদলে রাজনৈতিক শেল্টারে তাদের ব্যবসা অব্যহত রয়েছে।
সাম্প্রতি ভারতের পেট্টাপোলে ভারতীয় ৫ ট্রাক রপ্তানী পণ্যের আমদানিকারক এই হাসানুজ্জামান। ঘটনাটি বাংলাদেশের একাধিক প্রিন্ট পত্রিকা ও অলনাইন পোর্টালে প্রকাশিত হওয়ার পর হাসান ও তার সহযোগী নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠায় ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে দেন দরবারে বসেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অবৈধ পন্থায় ভারত থেকে পণ্য আমদানিকরে এনে হাসানুজ্জামান হাসান টাকার কুমির বনে গেছে। অবৈধ আয়েবিত্ত ভৈরবে ডুবে গেছে। বেনাপোলের কাগজপুকুরে মোড়ে এবং ছোটআঁচড়ায় হাসানুজ্জামানের দুটি আলিশান বাড়ি দেখলেই যার সত্যতা মেলে। এছাড়াও নামে বেনামে গড়ে তুলেছে বিপুল সম্পদের পাহাড়। একই ভাবে তার বিতর্কিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এই অবৈধপণ্য ভাড়ার লাইসেন্সে ছাড় করিয়ে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক বনে গেছে। দুদকে অভিযুক্ত সদ্য সাবেক কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামানসহ কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে অর্থের বিনিময়ে সখ্যতা গড়ে লাইসেন্স ভাড়া করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ শুল্কফাঁকিবাজরা ভাইভাই সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের সাথে কাস্টমসের আইআরএম টিম ও শুল্কগোয়েন্দার যোগসাজসে ৫আগস্ট পরবর্তীতে বিভিন্ন নামে আমদানি ও ভাড়াকৃত লাইসেন্সে শুল্কায়ন করেছে। ভাড়া লাইসেন্সে সিঅ্যান্ডএফ কারসাজির ব্যক্তিটিও যশোর শহরে চার কোটি টাকার বাড়ি কিনেছে। বিভিন্ন জায়গায় জমিসহ কোটি টাকার গাড়ী কিনে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, শুল্ক ফাঁকি দিতে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা অবৈধ পণ্য বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে বাংলাদেশে আমদানি করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন মহল জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব আমদানিকারকের পণ্যে বন্দরে আসার সাথে সাথে খালাশ হয়ে যায়। অথচ বৈধ ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত দরজায় কাছে ঘুরতে থাকে।
বেনাপোলের ভাইভাই সিন্ডিকেটের একটি চালান ভারত সরকারের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা সংস্থা সংস্থা এনফোর্সমেন্টডিরেক্টরেট (ইডি) ও কাস্টম যৌথভাবে আটক করে। সেই মালামালা ইনভেন্টরি কালীন সময়ে বাংলাদেশে রপ্তানীর জন্য প্রস্তুতকরা পণ্য চালানের বস্তার গায়ে এসআর ইন্টারন্যাশনাল বনগাঁ, এসআর পারভেজ, এসআরইন্টারন্যাশনাল, রাজন সেন, জেজে সোহেল, শাকিলএইসপি, আজিম, সিধু, আবুসাইদ ইত্যাদি সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে।
এ সংক্রান্তে পেট্টাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়িক মহল সূত্রে জানা যায়, রপ্তানী জন্য আটকৃত ৫ ট্রাক পণ্য চালানটি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জামান ট্রেডার্স ও ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাপি মন্ডল। বাংলাদেশে প্রবেশে অপেক্ষারত জব্দকৃত ভারতীয় ৫টি ট্রাকে মোটরসাইকেল পার্টসের নামে মিথ্যা ঘোষণায় বাংলাদেশে বিভিন্নপণ্য রপ্তানি করা
হচ্ছিল।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,দীর্ঘদিন যাবৎ বেনাপোলের হাসানুজ্জামান হাসান সহ চিহ্নিত একটি চক্র সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ এই বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে। হাসানুজ্জামান হাসান ভিন্নভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ব্যবহার করে এই রাজস্ব ফাঁকির কাজ করে। হাসানুজ্জামান হাসানের অধিকাংশ পণ্য ভাড়াকৃত লাইসেন্স ওমর এন্ড সন্স এবং নিরা এন্টাপ্রাইজ নামের লাইসেন্সে ছাড় করানো হয় বলে বন্দরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন।
বর্তমান কাস্টমস কমিশনার অনলাইনে পুরাতন কয়েকটি ফাইল নাড়া-চাড়া করলেই হাসানুজ্জামান হাসান এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওমর এন্ড সন্স এবং নিরা এন্টাপ্রাইজের নামে কয়টি কাজ করেছে তা প্রকাশ পাবে।
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের ইনভেজটিকেশন রিসার্স ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) উপ কমিশনার রাফেজা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশ কালে ভারতের পেট্রোল বন্দরে বড় একটি পণ্য চালান আটকের খবর পেয়েছি। তবে এই ঘটনাটি আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। কাস্টমসের কর্মকর্তাদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। অবৈধভাবে কোন পণ্যের চালান চলে না যায় সেজন্য শতভাগ পরীক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

