একাত্তর ডেস্ক:সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন শিক্ষকরা। এখন প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হবে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে, যার সর্বোচ্চ ধাপ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়ে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিদ্যমান বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী বর্তমান গ্রেড ১১ (স্কেল ১২৫০০-৩০২৩০) থেকে দশম গ্রেড (স্কেল ১৬০০০-৩৮৬৪০) (গেজেটেড কর্মকর্তা)-এ উন্নীত করা হলো।
প্রধান শিক্ষকেরা এতদিন ১১তম গ্রেডে বেতন পেতেন। এই গ্রেড অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হতো ১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে। এর সর্বোচ্চ ধাপ ৩০ হাজার ২৩০ টাকা।
এর আগে, সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল বিদ্যমান ১১তম থেকে বাড়িয়ে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতি অনুযায়ী অর্থ বিভাগ সম্মতিজ্ঞাপন করে। এছাড়া প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিও অনুমোদন দেয়। সংশ্লিষ্ট সব ধাপ শেষ করে এখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৫ ডিসেম্বরের তারিখে সই করা প্রজ্ঞাপনটি মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রকাশ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা দেওয়ার কথা, কিন্তু বিষয়টি আটকে ছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ২৮ অক্টোবর রিট আবেদনকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি সব প্রধান শিক্ষক অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো এখন।
এদিকে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে আছেন (শুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা)। বেতন গ্রেড আপাতত ১১তম করাসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষকেরা।
এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান হলো সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছে, যা বেতন কমিশনের বিবেচনাধীন। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি, বর্তমানে কর্মরত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।
সূত্র:ইত্তেফাক

