শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ফজিলতপূর্ণ রমজান মাস

আরো খবর

অনলাইন ডেক্স: রমজান মাস। মুসলিম জাতির কাছে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হওয়া, ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা পাওয়ার উপযুক্ত সময়ও রমজান মাস। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের তৃতীয় স্তম্ভ রোজা। মাসব্যাপী রোজা পালন করাসহ নানান দিক থেকে মাসটি সবার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রমজান মাস সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন-

“হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের পূর্ববতী লোকদের ন্যায় তোমাদের উপরও সিয়াম তথা রোজাকে অপরিহার্য কর্তব্য রূপে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেন তোমরা সংযমশীল হতে পারো (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)।”

এছাড়া রসুলুল্লাহ (সাঃ) রোজাদার ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে সুসংবাদ ঘোষণা করে বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা রাখলো, তার আগের (জীবনের) গুনাহরাশি মাফ করা হলো (ইবনে মাজাহ)।”

আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীল বান্দাদের ক্ষমা ও রহমত পাওয়া সম্পর্কে আশ্বস্ত করে পবিত্র কুরআনে এভাবে ঘোষণা দেন- ‘আর তোমরা জমিনে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না তার সংশোধনের পর এবং তাঁকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের কাছাকাছি (সুরা আরাফ : আয়াত- ৫৬)।”

এ আয়াতেও আল্লাহ তাআলা আমাদের উদ্দেশ্যে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা যখন ইবাদত করবো, তখন আমাদের অবশ্যই এমনভাবে ইবাদত করতে হবে, তা যেন লোক দেখানো না হয় এবং মানুষের সামনে নিজেকে খাঁটি বান্দা প্রমাণ করা উদ্দেশ্য না হয়। বরং অন্তরে আল্লাহর ভয়কে জাগ্রত করে ইবাদত করাই জরুরি। আর কোনোভাবেই আল্লাহর বিধানের লঙ্ঘন করা যাবে না। বিশৃঙ্খলা বা বিপর্যয় সৃষ্টি করা যাবে না। তবেই মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সৎকর্মগুলো কবুল করেন এবং সব গুনাহের জন্য জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দেবেন। দান কারণে অফুরন্ত রহমত।

আপনি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ অন্তরে নিজের কৃতকর্মের জন্য চোখের পানি ছেড়ে তারই শেখানো ভাষায় হজরত মুসা আলাইহিস সালামের মতো ক্ষমা প্রার্থনা করে বলতে পারেন- ‘হে আমার প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের আত্মার উপর জুলুম করেছি, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। এরপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন, অবশ্যই তিনি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)।”

আল্লাহ ক্ষমাশীল। আল্লাহর কাছে আপনার ইবাদতের কোনো একটি অংশ যদি পছন্দ হয়ে যায়, তাহলে আপনার জাহান্নামের আজাব তথা শাস্তি থেকে বাঁচার অন্যতম একটি মাধ্যম এটি।

আর একনিষ্ঠভাবে ইবাদত শুধু নির্দিষ্টভাবে রমজান মাসেই নয়, বরং অন্যান্য মাসের দিন এবং রাতেও নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। তবেই আল্লাহর একনিষ্ঠ ইবাদতের মাধ্যমে আপনি তাহার একজন মুত্তাকি বান্দা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

ইবাদতের এই মাসে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে উল্লিখিত মুখে উচ্চারণ সহজ, পাঠ করতে কম সময় ব্যয় হয় কিন্তু সওয়াবের পরিমাণ অত্যধিক, এমন অনেক আমল রয়েছে যার মাধ্যমে আমাদের যেমন আমলনামায় নেকির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে তেমনি এই আমলগুলো পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে তার সন্তুষ্টি অর্জন ও রহমত অর্জন করাও সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। এসব সুরা ও আয়াতের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল তুলে ধরা হলো-

১. সুরা মুলক তেলাওয়াত
হজরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোরআনুল কারিমে তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা আছে। যে সুরাটি তার পাঠকের জন্য (কেয়ামতের দিন) সুপারিশ করবে, শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সুরাটি হচ্ছে- সুরা মুলক (আবু দাউদ)।”

২. দরুদ পড়া
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাজিল করেন (মুসলিম)।”

যেমন আপনি যদি ছোট্ট এ দরূদটি একবার পাঠ করেন- ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তাহলে রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ঘোষণা অনুযায়ী আল্লাহ আপনার প্রতি ১০বার রহমত নাজিল করবেন।

৩. তাসবিহ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার- (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি) বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয় (বুখারি)।”

হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি একবার বলে- (সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি, অর্থ : আমি মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করছি) তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয় (তিরমিজি)।”

৪. জিকির
হজরত কাব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “এমন কতগুলো তাসবিহ রয়েছে, যার পাঠকারী তার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রত্যেক নামাজের পর সে ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবর’ ৩৪ বার বলবে (নাসাঈ)।”

৫. সুরা তাকাসুর
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের এমন কেউ কি আছে যে প্রতিদিন এক হাজার আয়াত পাঠ করতে সক্ষম? সাহাবিগণ বললেন, কে এমনটি করতে সামর্থ্য রাখে? রসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে যদি কেউ সুরা তাকাসুর পাঠ করতে সক্ষম হয়; তাহলে সে এই সওয়াবের অধিকারী হবে (মুসতাদরাকে হাকেম)।”

এভাবে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত অনেক দোয়া রয়েছে, যা পাঠে অসংখ্য নেকি অর্জন করা সম্ভব। রমজান ও রোজা শুধুমাত্র খাবার না খেয়ে থাকার উৎসবে পরিণত না হয়ে, আত্মার পবিত্রতা অর্জনের জন্য জারিয়া হয়ে উঠুক রোজা ও রমজান মাস।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব রোজাদারকে কোরআন-সুন্নাহর আমলে জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন। রোজা ও রমজান মাসকে ইবাদতের মাস হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ