শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বকচরে গরু খামার কর্মচারীকে গলা গেটে হত্যা, স্ত্রীর মামলা

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের বকচর এলাকায় রাণী চানাচুর কোম্পানির ক্যাম্পাসের মধ্যে মিলন নামে এক গরু খামার কর্মচারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর সকালে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে এগারোটার পর থেকে ১৪ অক্টোবর সকালের মধ্যে যেকোনো সময় এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

 

নিহত মিলন মণিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া খালকান্দা গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আসামি অজ্ঞাত করে থানায় এজাহার দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত ও আটকে অভিযান শুরু করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ আটক নেই বলে জানিয়েছেন থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুুল আক্তার।
থানা পুলিশ ও সহকর্মীদের কাছ থেক তথ্য মিলেছে, ১৩ অক্টোবর রাত ১১ টা পর্যন্ত তিনি এক নাইট গার্ডের সাথে ওয়াজ মাহফিল শুনেছেন। পরে ঘুমাতে যান। ১৪ অক্টোবর সকালে কোম্পানির কর্মচারীরা তার সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে যান। ঘরের মধ্যে গিয়ে মিলনের গলাকাটা লাশ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দিলে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা আসমত জানিয়েছেন, মিলন সেখানে যশোরের ওই চানাচুর কোম্পানির গরুর খামারে একাই থাকতেন। তার স্ত্রী দু’ছেলেকে নিয়ে মণিরামপুরে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। সকালে খবর শুনে তারা এসেছেন। তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ওই চানাচুর কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিলন ৩ বছর তাদের গরুর খামার দেখাশোনা করেন। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। মিলন ভাল এবং নিরীহ প্রকৃতির ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে হত্যকান্ডের খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, ডিবির ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুল আক্তারসহ পিবিআই যশোরের কর্মকর্তারা।
ঘটনার ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুল আক্তার দৈনিক গ্রামে কাগজকে জানিয়েছেন, ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাতের কোন এক সময় বকচর বিহারী কলোনী এলাকার গরুর খামারের মধ্যে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কারা কী কারণে এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা এখনও পরিস্কার নয়, উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত ও আটক অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আসামি অজ্ঞাত করে মামলা দিয়েছেন। এখনও কেউ আটক হয়নি। তবে জড়িতরা দ্রুত শনাক্ত ও আটক হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ