শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন

আরো খবর

এম.আমিরুল ইসলাম জীবন: যশোরের ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃস্টি হয়েছে। কেউ বলছে প্রতিবন্ধী বলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কেউ বলছে নবজাতকটি মৃত জন্ম গ্রহণ করে। ঘটনা উপজেলার বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে।

জানা যায়, বাঁকড়া মঠপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ইমন হোসেন (২৩) গুন্ধরমোড় গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে সুমি খাতুনের সাথে প্রথমে প্রেমে এবং পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পিতা মাতার অমতে বিবাহ করায় অদ্যবধি সুমির পরিবার মেনে নেয়নি।
সংসার জীবনে সুমির গর্ভে একটি সন্তান আসে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সুমির শশুর খুশি হয়ে তাকে প্রথমে পূর্বাশা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে পেগনেসির জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য নিয়ে আসে। ক্লিনিকের ডাঃ ইসমত আরা মৌসুমী পরীক্ষা করে রির্পোট দেন সুমির পেটে দু’টা বাচ্চা আছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় ৫ জুলাই সুমিকে বাঁগআচড়ার জোহরা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চেকআপ করান। সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন রোগীর পেটের বাচ্চার অবস্থা ভালো না। আপনারা রোগীকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আমাকে রিপোর্ট গুলো দেখাবেন।
যথারীতি ৭জুলাই যশোর কুইন্স হাসপাতাল (প্রাঃ) এ নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে প্রমাণ হয় সুমির গর্ভে প্রতিবন্ধী নবজাতক রয়েছে। নবজাতক প্রতিবন্ধী হওয়ার খবর পেয়ে পূর্বের চিত্র পাল্টে যায়।

১১ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুরের দিকে সুমিকে একতা মেডিকেল সার্ভিসে নিয়ে আসা হয়। তখন সুমির গর্ভে থাকা বাচ্চার হার্ডবিট চলছিল বলে একতা মেডিকেল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানান।
সুমিকে একতা মেডিকেল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ৫৭ মিনিটের জন্য অক্সিজেন দেওয়ার পর সুমির শশুর সিরাজুল ইসলাম রোগীকে বিকালের দিকে বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন এবং রোগীর কাগজপত্র বিহীন তাকে ভর্তি করে দ্রুত রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান এবং বাচ্চা ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করেন। রাত ১১টার দিকে ক্লিনিকের মালিকের স্ত্রী ডেন্টিস মোছাঃ নিলুফা ইয়াসমিন কর্তৃক নরমালভাবে ডেলিভারি করানো হয়। তবে ওই সময় ক্লিনিকে কোনো ডাক্তারের উপস্থিতি ছিলো না বলে জানা যায়।
তবে ঘটনার দিন সুমির বাপের বাড়ির পরিবারের পক্ষ হতে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যশোরে নিতে যাওয়া হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে ছাড়পত্র দেননি। তারা বলেন, নরমাল অথবা সিজার করতে হলে আমাদের এখানে ব্যবস্থা আছে আমরাই করবো।
ক্লিনিকের মালিকের স্ত্রী ও ক্লিনিকের ডেন্টিস মোছাঃ নিলুফা ইয়াসমিন তিনি গাইনী ডাক্তার বা অভিজ্ঞতা সর্ম্পূণ নার্স কি না এই বিষয়ে ক্লিনিকে জানতে চাওয়া হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমার স্ত্রীর সার্টিফিকেট রয়েছে।
সুমির স্বামী ইমন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিভিস করেনি। পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে রাখেন।
সুমির শশুর সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি চেষ্টা করেছি না বাঁচলে আমরা কি করবো। পূর্বাশা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের ডাক্তার মেশিনের মাধ্যমে চেকআপ করে সুমির গর্ভে দু’টা বাচ্চা পেয়েছে।
তবে এখন কি ভাবে একটা বচ্চা হল সেটা তারা বলতে পারবে না। একতা মেডিকেল সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবাদুল ইসলাম বলেন, আমার ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় বাচ্চার হার্ডবিট ভালো ছিলো। তবে পরে তার শ্বশুড় আমার এখান থেকে বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে গেছে। বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী, সুমিকে নরমাল ভাবে ডেলিভারী করিয়েছে। বাচ্চা প্রতিবন্ধী ও মরা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ রাশিদুল আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি ভালো ভাবে অবগত নই। আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ আসলে আমি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ