একাত্তর ডেস্ক:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের তিনটি আসনে লড়াই করবেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম।
তার আপন ছোট ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির বর্তমান সমন্বয়ক এম এ সালাম একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) ও বাগেরহাট-৩ (রামপাল, মোংলা) আসনে এবং এম এ সালাম ভোট করবেন বাগেরহাট-২ (সদর, কচুয়া) আসনে।
তারা দুজনই বিএনপির মনোয়নন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সোমবার বিকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পর পর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই আবার বাগেরহাট-২ (সদর, কচুয়া) আসনে একে অপরের মুখোমুখি হবেন।
বিএনপি বাগেরহাট-১ আসনে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সভাপতি সোমনাথ দে-কে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।
২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর রাজনীতি থেকে দূরে থাকা বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম গত বছরের ৫ অগাস্টের পর রাজনীতিতে ফেরেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে এম এ এইচ সেলিম বলেন, “২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করি। এরপর আমি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম। গত ১৬-১৭ বছর রাজনীতির পরিবেশ ছিল না। গত বছরের ৫ অগাস্টের পর রাজনীতির পরিবেশ অনুকূল হয়। ১৭ বছরের বেশি সময় পর আমি আমার জন্মভূমি বাগেরহাটে আসি। তখন এলাকার মানুষ আমাকে আবার রাজনীতিতে ফেরার অনুরোধ করে।
“আমি ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। ওই সময়ে আমি আমার নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করি। এলাকার মানুষের ভালবাসায় দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করি এবং আজ তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আমি বাকি জীবনটা মানুষের জন্য কিছু করে যেতেই স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করার অঙ্গীকার করেছি।”
এম এ সালাম বলেন, “২০০৭ সালে বিএনপির দুর্দিনে দলের হাল ধরেছিলাম। ২০১৬ সাল পর্যন্ত দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতন, হামলা, মামলার শিকার হয়েছি, জেল খেটেছি। দলের নানা কর্মসূচি পালন করেছি। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি।
“গত ১৬-১৭ বছর আমার দলে কী অবদান আছে তা সব নেতাকর্মী জানে। বিএনপির জরিপেও আমার অবস্থান সবার উপরে ছিল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব সময় বলে আসছেন দলের দুর্দিনে যারা ছিল দল তাদের মূল্যায়ন করা হবে। দল আমাকে কী দিল?”
তিনি বলেন, “সব পর্যায়ের নেতারা আজ হতাশ হয়েছে। দলের দুর্দিনে থাকা সেসব নেতাকর্মীরা আমাকে চাইছে। তাই তাদের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি। দলের মনোনয়ন পুর্নবিবেচনা করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
সূত্র: বিডিনিউজ

