শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বিএডিসির সার আত্মসাত:সাবেক ভান্ডার কর্মকর্তার ১৪ বছর জেল

আরো খবর

 নিজস্ব প্রতিবেদক:দুর্নীতির মাধ্যমে বিএডিসির সার আত্মসাতের মামলায় সাবেক ভান্ডার কর্মকর্তা আজগর আলীকে বিভিন্ন ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ডও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে যশোরের আদালত। একই সাথে আত্মসাতকৃত ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ১৬ টাকা রাষ্ট্রের অনুকুলে জমা দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুইজন ও মৃত্যু হওয়ায় একজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ সামছুল হক এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। দন্ডপ্রাপ্ত আজগর আলী বাঘারপাড়ার আরাজী সিলিমপুর গ্রামের মৃত আরশাদ আলী মোল্যার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি আজগর আলী যশোর বিএডিসির সহকারী পরিচালক (সার) ভান্ডার কর্মকর্তা হিসেবে ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। বিএডিসির চাঁচড়া-১ নম্বর গুদামের  সার কম মনে হওয়ায় একটি কমিটি বিষয়টি অডিড করে।  অডিটে গুদামে ৩২০ মেট্রিক টন এমওপি সার কম পাওয়া যায়। যার দাম ৭৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬০ টাকা। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যশোর বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) রতন কুমার মন্ডল বাদী হয়ে আজগর আলীকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি দূর্নীতি দমন কমিশন তদন্তের দায়িত্ব পায়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে যশোর বিএডিসির গোডাউনে বিভিন্ন প্রকারের সার আনার সময় ভান্ডর কর্মকর্তা আজগর আলী ও উপসহকারী পরিচালক  ফাহাদ আল মামুন ব্যবসায়ী এমএ রাশেদ ও মমিন উদ্দিনের কাছে ৯৪৪ মেট্রিক টন সার বিক্রি করেছিলেন। এরমধ্যে মামলার তদন্তকালে ভান্ডার কর্মকর্তা আজগর আলী ১০০ মেট্রিক টন সারের দাম পরিশোধ করেন। বিএডিসির স্টক রেজিস্টার ও গোডাউনের সার মিলিয়ে ৮৪৪ মেট্রিক টন সার দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী।
দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহণ শেষে আসামি আজগর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ৪০৯ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জমিরানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড ৪২০ ধারায় ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাদন্ড ও দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় উপসহকারী পরিচালক ফাহাদ আল মামুন ও মোমিন উদ্দিন এবং মৃত্যু হওয়ায় এমএ রাশেদকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায়ে সাজা একই সাথে চলবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আজগর আলী কারাগারে আটক আছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ