শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপির ৪৭ বছর অপেক্ষা: অধরা থেকে গেল কেশবপুরের আসন

আরো খবর

রুহুল কুদ্দস, কেশবপুর (যশোর): ৪৭ বছর অপেক্ষা করেও বিএনপির অধরা থেকে গেল কেশবপুরের সংসদীয় আসন। জয়ের দ্বার প্রান্তে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে হয়েছে প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের। তার হেরে যাওয়া নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে চুল চিরা বিশ্লেষন। আলোচনায় উঠে আসছে
অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ, নেতাদের সমন্বয়ের অভাব, উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সুপ্ত ক্ষোভ, নেতা-কর্মীদের প্রথম দিকে নিস্ক্রিয় থাকাসহ প্রার্থী পরিবর্তনের প্রভাবের কথা।  ফলে দীর্ঘ ৪৭ বছরেও হারানো আসন উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি।

জানা যায়,  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত গাজী এরশাদ আলী। এরপর থেকে আর কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়ের স্বাদ পায়নি বিএনপি। অথচ শহরেই রয়েছে তাদের দলের শক্তিশালী ঘাটি। সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনেও এর অবসান হয়নি। দলের মধ্যে বিভক্তি স্থায়ী হয়ে যায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হোসেন আজাদ সমর্থকদের নিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে মিছিল মিটিং অভ্যাহত রাখে। অপরদিকে, সাবেক আহবায়ক মশিয়ার রহমান তার নেতা-কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবনের পক্ষে মিছিল মিটিং করে আলোচনায় আসেন। দল থেকে প্রাথমিক ভাবে রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।

তিনি প্রায় দেড় মাস ধরে মাঠ চষে বেড়ানো অবস্থায় এ আসনে রওনকুল ইসলাম শ্রাবনকে বাদ দিয়ে চুড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় আবুল হোসেন আজাদকে। ফলে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

 

রওনকুল ইসলাম শ্রাবন গ্রুপের নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের পক্ষে ভোট করলেও তা ছিল লোক দেখানো। যার বহি:প্রকাশ ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাঠে। অনেক নেতাকর্মীকে ভোটের দিন নিশ্চুপ থাকাতে দেখা যায় বলে সাধারণ ভোটাররা অভিযোগ করেন। দলের নেতাদের সমন্বয়ের অভাব, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, প্রাথমিক এবং চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘ ৪৭ বছরেও হারানো আসন উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি।

 

যে কারণে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯১০১৮ ভোট পান। অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ পান ৭৯৩২১ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ১১৭৯৭ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ