নিজস্ব প্রতিবেদক: এনসিপি নির্বাচন চায়,কিন্তু সেটা সংস্কার ও বিচারের পর। আগে রাষ্ট্র সংস্কার তারপর নির্বাচন। কেবলমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্যই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদের বিদায় করে কোন চাঁদাবাজ, দূর্ণতিবাজ ও ক্ষমতালিপ্সুদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছাত্র-জনতা বন্দুকের নলের সামনে জীবন বিসর্জ দেয়নি।
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা থেকে নামাতে পেরেছি। কিন্তু এখনো রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি আলোচনার টেবিলে। প্রয়োজনে আমরা আবারও দেশের নিপীড়িত, নির্যাতিত, বঞ্চিত মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামবো। কিন্তু সংস্কার ও বিচারের আগে এই দেশে যেন তেন ভাবে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।
গতকাল বিকেলে যশোর ঈদগাহ মোড়ের খেজুর চত্বরে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুশিয়ারি প্রদান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। যারা ইতিমধ্যে দেশকে চাদাবাজির ক্ষেত্রে পরিণত করেছে এবার লড়াইটা হবে তাদের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি যারাই করবে এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন বন্দোবস্ত নিয়ে এনসিপি জনগণের কাছে যাচ্ছে। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এনসিপির প্রতিটি নেতাকর্মী সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে যে, এনসিপি নির্বাচন চায়। কিন্তু তার আগে সংস্কার ও বিচার কাজ শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, আগে রাষ্ট্র যন্ত্র মেরামত ও সংস্কার করে খুনিদের বিচার করতে হবে- তারপরে নির্বাচন। আর যারা এসব না করে কেবরমাত্র নির্বাচনের কথা বলছে তারা দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্ভভৌমত্বের সাথে ও জুলাই বিপ্লবে হাজার হাজার শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই যশোরের মাটি বিপ্লবীদের ঘাটি। এই মাটিতে কমরেড আব্দুল হক, কমরেড আব্দুল মতিন, কমরেড মনি পীর, কমরেড অমল সেনসহ হাজারো বিপ্লবীর জন্ম হয়েছে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে এই যশোরের মানুষের রয়েছে গৌরব উজ্জল ইতিহাস।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোরের মানুষের সশস্ত্র সংগ্রামের কথা ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে। বীর শ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ শেখ এই মাটির সন্তান। এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছিলেন। মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে এই যশোর থেকে বিজয় সূচিত হয়েছিল। যশোর প্রথম শত্রুমুক্ত জেল।
১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও যশোরের নেতাদের ছিলো গৌবর উজ্জ্বল ভূমিকা। ২০২৪ সালের ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতন ও বিদায় ঘন্টা বাজানোর আন্দোলনেও যশোরে বীর ছাত্র জনতার অংশ গ্রহণ ছিলো উল্লেখ করার মতো। সেই যশোর থেকে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম তা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করলাম।
পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে যশোর থেকে শুরু হয় জুলাই পদযাত্রা। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনার পথে যাত্রা করে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১ টায় যশোরের একটি অভিযাত হোটেলে জুলাই আন্দোলনে যশোরাঞ্চলে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এই মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা ও আহত জুলাই যোদ্ধারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া আহতরা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ঘোষণা পত্র, আহতদের স্বীকৃতি ও ‘জুলাই সনদ’ প্রদান, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম,মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. তাসনিম জারা, এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

