সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে কেশবপুরে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিয্যকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বিলুপ্তপ্রায় লাঠি খেলা।
আবহমানকাল ধরে এলাকার মানুষের বিনোদনের খোরাক যুগিয়েছে এই লাঠি খেলা। কিন্তু কালের বির্বতনে মানুষ ভুলতে বসেছে এই লাঠি খেলা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষে তাদের নৈমিত্তিক জীবনের উৎসব- যেমন: বাংলা বর্ষবরণ, বিবাহ, সুন্নতে খাতনা, চড়ক পূজা, মহরম ইত্যাদি উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রামে লাঠি খেলার আয়োজন করতো। ঢাক-ঢোলের বাজনায়, গানের তালে তালে যেন এ আনন্দময় উৎসব আয়োজন।
আর কাঁসার ঘন্টার তালে তালে চলতো লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও পাল্টা আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা। তাতে উৎসাহ দিচ্ছেন শত শত দর্শক।
আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিলো উৎসবের আমেজ। লাঠি খেলা দেখতে দুরদুরান্ত থেকে ছুটে এসেছে দর্শকরা। যুবসমাজের মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখতে পারে কার্যকরী ভুমিকা এমন মত আয়োজক সংশ্লিষ্ঠদের। নিয়মিত এই ধরনের আয়োজনের দাবি দর্শকদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুজ্জামান, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীন, থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক পিন্টু লাল দাশ, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান। খেলা দেখতে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, সমাজ থেকে অন্যায় অপরাধ দূর করতে আর হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন। বিপথগামী যুব সমাজের মাদকাসক্ততা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে লাঠি খেলার মত আয়োজন পথ দেখাবে, যুক্ত করবে সম্প্রতির বাঁধনে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ