শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বিলুপ্তির পথে শ্যামনগর উপকূলে খেজুরের রস

আরো খবর

মোঃ আলফাত হোসেন:
এক সময় শীত মৌসুম এলেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় খেজুরের রস ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পানীয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই গাছিরা খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করতেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও পেশা পরিবর্তনের কারণে সেই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগে শ্যামনগরের গ্রামগুলোতে শত শত খেজুর গাছ ছিল। শীত এলেই রস সংগ্রহ, গুড় তৈরি ও পিঠা-পুলির ধুম পড়ত। এখন সেই দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়ে। অনেক খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার অনেক গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়ে গেছে।
শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবীণ গাছি আব্দুল করিম বলেন, “আগে শীত আসলেই আমাদের কাজের অভাব থাকত না। প্রতিদিন রস তুলতাম, গুড় বানাতাম। এখন গাছও কম, মানুষও আর এই পেশায় আসতে চায় না।”
স্থানীয়দের মতে, লবণাক্ত পানির প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খেজুর গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি এই পেশায় ঝুঁকি ও পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম হওয়ায় নতুন প্রজন্ম আগ্রহ হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগরের এক সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু ইছা জানান, “খেজুরের রস শুধু একটি পানীয় নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এটি হারিয়ে গেলে আমাদের ঐতিহ্যও হারিয়ে যাবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খেজুরের রসের এই ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। খেজুর গাছ রোপণ, গাছিদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদান করা গেলে এই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে শ্যামনগরের উপকূলে আবারও ফিরবে খেজুরের রসের সোনালি দিন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ