নিজস্ব প্রতিবেদক:৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আজ যশোরের বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে ভোট গ্রহণ করা হবে। সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট গ্রহণ। অবধ সুষ্ট এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহনৈর জন্য কঠোর নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গ্রহণের লক্ষ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরাঞ্জম পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে নির্বাচনী সরাঞ্জম নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে চলে গেছেন। এদিকে পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ করার সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২২জন প্রার্থী। এর মধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাচনে ১৭জন ও অভয়নগর উপজেলায় ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ দুই উপজেলায় ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে আজ দুপুর ১২টা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। ১৫১টি কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্রে পৌছে গেছেন।
এর আগে যশোর পুলিশ লাইনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জানানো হয় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে দুই হাজার পুলিশ, ২ হাজার ৪শ’ আনসার সদস্যের পাশাপাশি আরো ৫শতাধিক র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ করার সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে সমগ্র নির্বাচনী এলাকা।
অভয়নগর প্রতিনিধি জানান,অভয়নগরে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীরাও নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রচার প্রচারণা শেষে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সরদার অলিয়ার রহমান এবং আনারস প্রতিক নিয়ে রাজঘাট-নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল শাখা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র রবিন অধিকারী ব্যাচা প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তবে এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তারু। অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতিক নিয়ে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মিনারা পারভিন ও কলস প্রতিক নিয়ে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা খাতুন এবং হাঁস প্রতিক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি সাফিয়া খানম প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের উপজেলা নির্বাচন হবে অন্য সকল নির্বাচনের চেয়ে ব্যতিক্রম। কেননা দলীয় প্রতিক না থাকায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিএনপি- জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। ব্যক্তিগত সর্ম্পকের কারণে কেউ কেউ নির্বাচনে জড়িয়ে পড়লেও এরইমধ্যে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে একই দলের সকল প্রার্থী হওয়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াউয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভোটাররা বলছেন এবারের নির্বাচনে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবেনা, তাই লড়াই হবে সমানে সমান। এদিকে বিএনপির ভোট বর্জন ও প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে ভোটের মাঠে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে নানা সঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘূর্নিঝড় রোমেল এর প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবার অভয়নগরের মোট ২ লাখ ১৮ হাজার ৯০ জন ভোটার ভোট প্রদান করবে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৩ জন ও হিজড়া ভোটার ২ জন। উপজেলার মোট ৮১ টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে সারাদিন ভোটাররা ভোট প্রদান করবে।
বাঘারপাড়া প্রতিনিধি জানান, এ উপজেলা নির্বাচনে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। একইসাথে সবাই স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় । নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী (মোটরসাইকেল), উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা (দোয়াত কলম), উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য রনজিৎ রায়ের বড় ছেলে রাজীব রায় (ঘোড়া), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী (আনারস), বন্দবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম রেজা খান (হেলিকপ্টার) ও জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বাদশা (কাপ পিরিচ)। ভোটের মাঠে ৬ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিন প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফরাজী, আব্দুর রউফ মোল্যা ও রাজীব রায়ের মধ্যে। এ উপজেলায় সাধারণ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন সাতজন। তারা হলেন, নারিকেলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান চিশতী (টিউবওয়েল), বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হুসাইন নান্নু (চশমা), পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এনায়েত হোসেন লিটন (মাইক) , উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিএম শাহাজালাল (বই) , কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য তাওহিদুর রহমান (উড়োজাহাজ) বাঘারপাড়া বণিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন (টিয়া) ও জহুরপুর এলাকার আওয়ামীলী নেতা গোলাম ছরোয়ার (তালা) । এছাড়া নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বিথিকা বিশ্বাস (পদ্মফুল) , উপজেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুন নাহার লিমা (ফুটবল) , ধলগ্রাম ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি রেকসোনা খাতুন (কলস) ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দিলারা জামান (প্রজাপতি)। একজন হিজড়া ভোটারসহ এ উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে এক লাখ ৮৯ হাজার ৫১১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৪০৬ জন ও মহিলা ভোটার ৯৪ হাজার ১০৪ জন। এখানে কেন্দ্র ৭০ টি। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে দুই প্লাটুন বিজিবি, ১০৬৪ জন আনসার, ৮৪৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে ২৩ টি মোবাইল টিম, তিনটি ডিবি টিম।এছাড়া দায়িত্ব পালন করবেন ৭০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৬৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ১১৩৮ জন পোলিং অফিসার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নি জানান, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবের সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

