হাবিবুর রহমান হবি:
রাত পোহালে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোট। বহু প্রত্যাশিত এই নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য এরই মধ্যে যশোরসহ সারাদেশে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার ৬ টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
তার মধ্যে যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়া অন্যরা দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে বড় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের সমর্থক বা ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর তথা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়।
যশোরে বিএনপি,জামায়াত, জাতীয় পার্টি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকালেও মুল লড়াই ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার প্রার্থীদের মধ্যে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে মণিরামপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। এ আসনে কলস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বিএনপির বহিস্কৃত নেতা শহীদ ইকবাল।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,
যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমান।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে রয়েছেন বিএনপির সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর মোহম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী ইমরান খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) প্রার্থী শামছুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) প্রার্থী রিপন মাহমুদ।
যশোর-৩ (সদর) আসনে আছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন,জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রার্থী নিজামদ্দিন অমিত ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (বাসদ) প্রার্থী রাশেদ খান।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে লড়ছেন বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপির রশীদ ওয়াক্কাস। জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, জাতীয় পার্টির এম এ হালিম, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদিন, স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর মুক্তার আলী, জাতীয় পার্টির জি এম হাসান, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান, ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮জন। জেলার ৯৩ টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌর সভায় ৮২৪ ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ ভোট কক্ষে ১৪ হাজার ৮৬১ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮২৪, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ ও পোলিং অফিসার ৯ হাজার ৩৫৮।
জেলা নির্বাচন অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, যশোর-১ শার্শা আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩, হিজড়া ভোটার ৩। ১০২ ভোট কেন্দ্রের ৫৭৭ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্বপালন করবেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ১০২, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৫৭৭, পোলিং অফিসার ১ হাজার ১৫৪ ।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লখ ৮৪ হাজার ৮৬৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৭জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৯০জন, হিজড়া ভোটার ২। ১৭৫ ভোট কেন্দ্রের ৯০৫ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্বপালন করবেন ২ হাজার ৮৯০ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ১৭৫, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৯০৫, পোলিং অফিসার ১ হাজার ৮১০ ।
যশোর-৩ সদর আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৬২জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৫১, মহিলা ভোটার ৩ লাখ ৫ হাজার ৯০১, হিজড়া ভোটার ১০। ১৯০ ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১৮৩ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্বপালন করবেন ৩ হাজার ৭৩৯ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ১৯০, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ১ হাজার ১৮৩, পোলিং অফিসার ২ হাজার ৩৬৬।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫০, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৫, হিজড়া ভোটার ৪। ১৪৮ ভোট কেন্দ্রের ৮৬৯ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্বপালন করবেন ২ হাজার ৭৫৫ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ১৪৮, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৮৬৯, পোলিং অফিসার ১ হাজার ৭৩৮ ।
যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৫২জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭৭, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭১, হিজড়া ভোটার ৪। ১২৮ ভোট কেন্দ্রের ৭২০ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।দায়িত্বপালন করবেন ২ হাজার ২৮৮ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ১২৮, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৭২০, পোলিং অফিসার ১ হাজার ৪৪০ ।
যশোর-৬ কেশবপুর আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪, মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১৭, হিজড়া ভোটার ২। ৮১ ভোট কেন্দ্রের ৪২৫ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্বপালন করবেন ১ হাজার ৩৫৬ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ৮১, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৪২৫, পোলিং অফিসার ৮৫০ ।

